রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের (Ukraine War) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিল পোল্যান্ড। শুক্রবার পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের একাধিক দেশের সঙ্গে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে তাঁর দেশ।
এক্স-এ প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় টাস্ক বলেন, পোল্যান্ড এই বড় প্রকল্পের অংশ হয়েছে এবং দুই পক্ষ সহযোগিতার কাঠামো ও পদ্ধতি নিয়ে একমত হয়েছে। ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে আয়োজিত প্রথম কার্পাথিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে এই ঘোষণা করেন টাস্ক। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে ইউরোপের একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
যৌথভাবে তৈরি হবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
চলতি বছরের জুলাইয়ে ইউক্রেন ও ইউরোপের আরও নয়টি দেশ একটি আকাশ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা করেছিল। এই জোটের অন্যতম লক্ষ্য হল যৌথভাবে নতুন অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম তৈরি করা।, প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় বিকল্প এবং তুলনামূলক কম খরচের সমাধান হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। সেই পরিস্থিতিতে নতুন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনকে নতুন সাহায্যের ঘোষণা পোল্যান্ডের
টাস্ক আরও জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জন্য পোল্যান্ড একটি নতুন এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সাহায্য প্যাকেজ প্রস্তুত করেছে। তবে সেই প্যাকেজে কী কী থাকছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ইউক্রেনকে সমর্থনের বিষয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনকে পোল্যান্ডের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতিহাস দুই দেশকে রাশিয়ার প্রশ্নে বিভক্ত করতে পারে না।টাস্কের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর জেলেনস্কি পোল্যান্ডকে নতুন সাহায্য প্যাকেজের জন্য ধন্যবাদ জানান। সামাজিক মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেন ও পোল্যান্ড শক্তিশালী প্রতিবেশী, বন্ধু এবং অংশীদার এবং তাদের একটি অভিন্ন শত্রু রয়েছে।
কার্পাথিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা
পশ্চিম ইউক্রেনের বুকোভেল স্কি রিসর্টে অনুষ্ঠিত প্রথম কার্পাথিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের পাশাপাশি রোমানিয়া, সার্বিয়া, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রিয়া এবং হাঙ্গেরি অংশ নেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় নিরাপত্তা, জ্বালানি, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য সহযোগিতার বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে। জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, কার্পাথিয়ান অঞ্চল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের পরিবহণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী দেশগুলির মধ্যে লজিস্টিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
Jesteśmy w Koalicji Antybalistycznej. pic.twitter.com/prtqKznHnB
— Donald Tusk (@donaldtusk) September 18, 2026
রুশ ড্রোন মোকাবিলাতেও নজর
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার পাশাপাশি রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় নতুন ইন্টারসেপ্টর তৈরির কাজও করছে ইউক্রেন। ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে রাশিয়ার তথাকথিত হাইব্রিড হুমকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে নাশকতা, সাইবার হামলা, ভুয়ো তথ্য ছড়ানো এবং ন্যাটো সদস্য দেশগুলির আকাশসীমায় সম্ভাব্য ড্রোন প্রবেশের মতো ঘটনা। ইউক্রেন সফরের আগে টাস্ক জানিয়েছিলেন, সামনে কঠিন কয়েকটি সপ্তাহ ও মাস অপেক্ষা করছে। তাঁর মতে, এই সময় ইউক্রেনের প্রতি সংহতি দেখানো গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোটে পোল্যান্ডের যোগদান এবং ইউক্রেনকে নতুন সাহায্য প্যাকেজের ঘোষণা ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে কিয়েভের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও
