ইউরোপ ও ব্রিটেনে লঞ্চ Royal Enfield ফ্লাইং ফ্লি সি৬, দাম ৬.৫৮ লক্ষ টাকা থেকে

ভারতে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল দুনিয়ায় রয়্যাল এনফিল্ডের (Royal Enfield) নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল ফ্লাইং ফ্লি সি৬। এবার সেই বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল পাড়ি দিল ইউরোপ ও ব্রিটেনের বাজারে।…

royal-enfield-flying-flea-c6-europe-uk-launch-price-range

ভারতে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল দুনিয়ায় রয়্যাল এনফিল্ডের (Royal Enfield) নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল ফ্লাইং ফ্লি সি৬। এবার সেই বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল পাড়ি দিল ইউরোপ ও ব্রিটেনের বাজারে। রয়্যাল এনফিল্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড ফ্লাইং ফ্লি-র প্রথম মডেল সি৬ এবার ইউরোপের পাঁচটি শহরে পাওয়া যাবে। অক্টোবর থেকেই সেখানে ডেলিভারি শুরু হওয়ার কথা।

Advertisements

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত ফ্লাইং ফ্লি মোটরসাইকেল থেকে সি৬-এর নকশার অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু রেট্রো ডিজাইন নয়, রয়্যাল এনফিল্ডের এই বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে একাধিক ব্র্যান্ড-ফার্স্ট প্রযুক্তিও রয়েছে।

   

ফ্লাইং ফ্লি সি৬-এর দাম কত?

ইউরোপে ফ্লাইং ফ্লি সি৬-এর দাম শুরু হচ্ছে ৫,৯৯০ ইউরো, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬.৫৮ লক্ষ টাকা থেকে। ব্রিটেনে মোটরসাইকেলটির দাম রাখা হয়েছে ৫,৩০০ পাউন্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬.৭৮ লক্ষ টাকা। ইউরোপ ও ব্রিটেনের বাজারে তিনটি রঙে পাওয়া যাবে সি৬, ফ্লি গ্রিন, স্টর্ম ব্ল্যাক এবং নতুন প্যারাশুট হোয়াইট। নতুন প্যারাশুট হোয়াইট রঙটি আন্তর্জাতিক বাজারে লঞ্চ উপলক্ষে যোগ করা হয়েছে। এই রঙের মডেল ভারতেও পাওয়া যাচ্ছে। বেঙ্গালুরুতে মোটরসাইকেলটির এক্স-শোরুম দাম ২.৭৯ লক্ষ টাকা।

পাঁচটি ইউরোপীয় শহরে শুরু হচ্ছে বিক্রি

প্রথম পর্যায়ে ইউরোপের পাঁচটি শহরে ফ্লাইং ফ্লি সি৬ বিক্রি করা হবে। তালিকায় রয়েছে:

Advertisements
  • প্যারিস
  • লন্ডন
  • বার্লিন
  • বার্সেলোনা
  • রোম

এই শহরগুলিতে অক্টোবর থেকে ডেলিভারি শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে রয়্যাল এনফিল্ড। ভারতে অবশ্য সি৬-এর বিক্রি এখনও বেঙ্গালুরুতেই সীমাবদ্ধ। দেশের অন্যান্য শহরে কবে থেকে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যাবে, সেই বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

১৫৪ কিলোমিটার রেঞ্জ, ইউরোপে ১০৪ কিলোমিটার

ভারতে ফ্লাইং ফ্লি সি৬-এর দাবি করা আইডিসি রেঞ্জ ১৫৪ কিলোমিটার। ইউরোপ এবং ব্রিটেনের ক্ষেত্রে একই মোটরসাইকেলের ডব্লিউএমটিসি দাবি করা রেঞ্জ ১০৪ কিলোমিটার। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য মোটরসাইকেলের মূল স্পেসিফিকেশন বা ফিচারে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। দুই বাজারে আলাদা রেঞ্জের দাবির পিছনে মূল কারণ ভিন্ন পরীক্ষার মানদণ্ড কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাস্তব রাস্তায় দুই বাজারে রেঞ্জের পার্থক্য কতটা হবে, সেটিও ব্যবহারের পর আরও পরিষ্কার হবে।

১৫.৪ কিলোওয়াট মোটর ও ৩.৯১ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারি

ফ্লাইং ফ্লি সি৬-তে রয়েছে পিএমএস মোটর। এর সর্বোচ্চ শক্তি ১৫.৪ কিলোওয়াট। মোটরটিকে শক্তি জোগায় ৩.৯১ কিলোওয়াট আওয়ার এনসিএ ব্যাটারি প্যাক। ব্যাটারি প্যাকের জন্য ম্যাগনেশিয়াম অ্যালয় কেসিং ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাটারি সুরক্ষা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রয়্যাল এনফিল্ডের একাধিক প্রথম প্রযুক্তি

সি৬-এ রয়েছে রয়্যাল এনফিল্ডের বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, কাস্টমাইজ করা যায় এমন রাইডিং মোড এবং লিন-সেনসিটিভ এবিএস। অর্থাৎ মোটরসাইকেলটি শুধু বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেনের জন্যই নতুন নয়, ইলেকট্রনিক রাইডার এইডের ক্ষেত্রেও রয়্যাল এনফিল্ডের প্রচলিত মোটরসাইকেলগুলির তুলনায় আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সামনের দিকে নতুন এলইডি হেডল্যাম্প দেওয়া হয়েছে। রয়্যাল এনফিল্ডের দাবি অনুযায়ী, এটি সংস্থার আগের হেডল্যাম্পগুলির তুলনায় উন্নত। সামনের ইন্ডিকেটর হ্যান্ডেলবারের সঙ্গে ইন্টিগ্রেট করা হয়েছে।

সি৬-এর পর আসতে পারে এস৬

ফ্লাইং ফ্লি হল রয়্যাল এনফিল্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য তৈরি পৃথক ব্র্যান্ড এবং সি৬ সেই ব্র্যান্ডের প্রথম উৎপাদন মডেল। সংস্থার ওয়েবসাইটে একই প্ল্যাটফর্মের উপর তৈরি স্ক্র্যাম্বলার-ধাঁচের এস৬-এর উল্লেখ রয়েছে। তবে এস৬ কবে বাজারে আসবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে আপাতত রয়্যাল এনফিল্ডের বৈদ্যুতিক যাত্রার মূল মুখ সি৬-ই। ভারতে বেঙ্গালুরু থেকে শুরু করে এবার প্যারিস, লন্ডন, বার্লিন, বার্সেলোনা ও রোমে পৌঁছচ্ছে এই বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল।

Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?

Read More:  Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা

Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও

Advertisements