আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। ভারত এবার সরাসরি আক্রমণ করল ইসলামাবাদকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে কার্যত কোণঠাসা করল ভারত। সন্ত্রাসবাদের সরাসরি প্রশ্রয়দাতা বলে ব্যাখ্যা করে এদিন ইসলামাবাদকে ধুয়ে দেয় নয়াদিল্লি। লস্কর-ই-তৈবা, জৈশ-ই মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি মূল আশ্রয়দাতা পাকিস্তান বলে দাবি করে ভারত।
এর পাশাপাশি, ৯/১১-র মূল হোতাদের পাকিস্তানের মাটিতেই আশ্রয় মিলছিল বলে জানায় ভারত। সন্ত্রাসবাদের জন্য একমাত্র পাকিস্তানই অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে বলেও দাবি ভারতের। এদিন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি বলেন ভারতের জনগণ এখনও ভুলে যায়নি লাদেন কোথায় লুকিয়ে ছিল। আমেরিকায় ৯/১১ হামলার পরে আল কায়দার সুপ্রিমো ওসামা বিন লাদেন ও চক্রী খালিদ শেখ মহম্মদ আশ্রয় পেয়েছিল পাকিস্তানেই।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন পাকিস্তানের সাধারণ জনবসতি এলাকাতেই এরা আশ্রয় পেয়েছিল। লাদেনকে অ্যাবোটাবাদের পাঁচিলঘেরা সুরক্ষিত বাড়ি থেকে খুঁজে বের করে আমেরিকা। ৯/১১ হামলার অন্যতম মূল চক্রী খালিদ শেখ মহম্মদকেও পাকিস্তানের একটি পাড়া থেকেই খুঁজে বার করা হয়েছিল। তৃতীয় নেতা রামজি বিনালশিভকেও পাওয়া যায় শহরেই। এই জঙ্গি নেতা ভিসা পায়নি বলে হামলায় যোগ দিতে পারেনি বলে জানা গিয়েছিল।
নয়াদিল্লির তরফে এদিন রাষ্ট্রসঙ্ঘে একের পর এক জঙ্গির নাম তুলে ধরা হয়, যারা বিশ্ব জুড়ে সন্ত্রাস ছড়ানোর কাজ করে চলেছে পাকিস্তানের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে বসে থেকে। এদিন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এককাট্টা হলেই চলবে না। যে সব দেশ সেই সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় ও আশ্রয় দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এদিন পাকিস্তানের মদতে গড়ে ওঠা জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধেও সুর চড়ায় ভারত। হরিশ পার্বতানেনি বলেন লস্কর-ই-তইবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো সংগঠনগুলি এখনও ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমাগত ষড়যন্ত্রের কাজ করে চলেছে, যা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।
