কলকাতা: নারদ স্টিং অপারেশন মামলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরেই ফের প্রকাশ্যে এল রাজনৈতিক চাপানউতোর। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিশানা করে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) প্রশ্ন তুললেন, ক্যামেরার সামনে টাকা নেওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনও জেলের বাইরে কেন। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কুণাল।
বৃহস্পতিবার বারাসত থানায় হাজিরা দেওয়ার পর এই মন্তব্য করেন কুণাল। কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। অভিযোগে কুণালের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে কাকলি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের অপমান ও হেনস্থা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বারাসত থানায় হাজিরা কুণালের
পুলিশের নোটিস পাওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ বারাসত থানায় পৌঁছন কুণাল ঘোষ। সঙ্গে নিয়ে যান বেশ কিছু নথিপত্র। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে তাঁর সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন করা হয় বলে কুণাল জানিয়েছেন।
কুণালের দাবি, তদন্তকারী আধিকারিক তাঁর একটি পোস্টের ছবি দেখিয়ে সেটি সম্পর্কে জানতে চান। তবে ওই পোস্টে কারও নাম বা পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি।
নারদ মামলা নিয়ে কুণালের আক্রমণ
থানা থেকে বেরিয়ে কুণাল বলেন, নারদ স্টিং অপারেশনে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল বলে তাঁর দাবি। সেই প্রসঙ্গেই সিবিআইয়ের কাছে চিঠি দেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে কুণালের বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে। নারদ মামলায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামাতেও তাঁর বিরুদ্ধে নারদ-সংক্রান্ত সিবিআই মামলা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে এখনও চার্জ গঠন হয়নি এবং কোনও সাজাও হয়নি।
২০১৭ সালে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর নারদ স্টিং অপারেশন নিয়ে সিবিআই তদন্ত শুরু হয়। সিবিআই পরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে।
কাকলির পাল্টা দাবি
কুণালের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বক্তব্য, কুণাল একজন বিধায়ক এবং তাঁর আইন সম্পর্কে জানা উচিত। তাঁর দাবি, নারদ সংক্রান্ত বিষয়টি বহু পুরনো এবং ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। কাকলি আরও দাবি করেন, তিনি যে টাকা নিয়েছিলেন সেটি অনুদান হিসেবে নেওয়া হয়েছিল এবং সেই টাকার হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নারদ স্টিংয়ের ভিডিওতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও অতীতে অনুদান হিসেবে অর্থ নেওয়ার দাবি করা হয়েছিল।
বৈদ্যনাথের অভিযোগ কী?
অন্যদিকে কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার কুণালের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কুণালের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের পিছনে থাকা ছবিতে তাঁর মায়ের ছবি ছিল। পাশাপাশি তাঁকে নিয়েও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বৈদ্যনাথ। তাঁর বক্তব্য, একজন সাংবাদিক এবং বিধায়কের কাছ থেকে এই ধরনের মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।
ফলে একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া পুলিশি প্রক্রিয়া এখন নারদ মামলা এবং পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ককেও ফের সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে কুণাল ঘোষ সিবিআইয়ের কাছে বিষয়টি তোলার কথা বলছেন, অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার নারদ-সংক্রান্ত অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে কুণালের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নারদ মামলায় কাকলির বিরুদ্ধে এখনও কোনও সাজা হয়নি এবং তাঁর নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মামলায় চার্জও গঠন হয়নি।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও
