মক্কার কাছে ড্রোন হামলা নিয়ে ইরানের সতর্কবার্তা, উঠল ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ প্রশ্ন

মক্কার (Makkah) দিকে এগিয়ে যাওয়া একটি ড্রোন সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে রিয়াদের দাবির পর ঘটনাটি নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান। তেহরানের…

iran-warns-over-makkah-drone-claim-false-flag-question-houthi-saudi

মক্কার (Makkah) দিকে এগিয়ে যাওয়া একটি ড্রোন সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে রিয়াদের দাবির পর ঘটনাটি নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান। তেহরানের বক্তব্য, শুধু ড্রোন আটকানোর দাবি থেকেই কোনও নির্দিষ্ট পক্ষকে হামলার জন্য দায়ী করা যায় না। একইসঙ্গে ইসলামি ধর্মীয় স্থানগুলিকে রাজনৈতিক বিরোধের অংশ না করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

Advertisements

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, মক্কা, মদিনা এবং আল-আকসা মসজিদের মতো ইসলামি পবিত্র স্থানে যে কোনও ধরনের হামলা বা সেখানকার তীর্থযাত্রী ও বাসিন্দাদের জন্য হুমকি নিন্দনীয়।

   

‘শুধু দাবি থেকেই দায় নির্ধারণ করা যায় না’

বাঘাইয়ের বক্তব্য, মক্কার দিকে যাচ্ছিল বলে দাবি করা একটি ড্রোন আটকানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আগে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ইয়েমেনের হুথিদের ওই অভিযোগ অস্বীকার করার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও বলেন, ইসলামি পবিত্র স্থানগুলির নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনা নিয়ে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা আঞ্চলিক বিভাজন আরও বাড়িয়ে দেয় বা উত্তেজনা বৃদ্ধি করে।

Advertisements

‘ফলস ফ্ল্যাগ’ নিয়ে ইরানের সতর্কবার্তা

বাঘাই সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পশ্চিম এশিয়ায় একাধিক ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযানের অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের ঘটনা ব্যবহার করে জনমত অন্যদিকে ঘোরানো এবং ইসলামি দেশগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে ইরানের এই ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ সংক্রান্ত বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মক্কার কাছে ড্রোন আটকানোর ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনও পক্ষের উপর চাপানোর জন্য সাজানো হয়েছিল, এমন কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

সৌদি আরবের দাবি কী?

সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন আটক করে ধ্বংস করে। তাঁর দাবি, ড্রোনটি পবিত্র শহরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ভূপাতিত করা হয়।  সৌদি পক্ষ ড্রোনটিকে হুথিদের ছোড়া বলে দাবি করেছে এবং ঘটনাটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হুথি হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে হুথিরা এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

মক্কার নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বলেছে রিয়াদ

সৌদি জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, মক্কা ও দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, পবিত্র স্থান ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও হুমকি বরদাস্ত করা হবে না এবং ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অর্থাৎ, একই ঘটনার বিষয়ে সৌদি আরব হুথিদের দায়ী করছে, হুথিরা তা অস্বীকার করছে এবং ইরান কোনও নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী করার আগে সতর্কতার আহ্বান জানাচ্ছে। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত উৎস এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি মেটেনি। আঞ্চলিক উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে মক্কার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও না বাড়ানোর পক্ষেই বার্তা দিয়েছে তেহরান।

Advertisements