নাসার সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ এখন সচল, পর্যবেক্ষণ চালাবে ৩০০ মেগাপিক্সেলের ‘চোখ’ দিয়ে

NASA: মহাকাশের রহস্য উন্মোচনের পথে নাসা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আপনি কি কখনও এমন স্বচ্ছ ও বিস্তারিত মহাকাশ-ছবির কথা কল্পনা করেছেন, যাতে মহাবিশ্বের প্রতিটি কোণ…

NASA

NASA: মহাকাশের রহস্য উন্মোচনের পথে নাসা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আপনি কি কখনও এমন স্বচ্ছ ও বিস্তারিত মহাকাশ-ছবির কথা কল্পনা করেছেন, যাতে মহাবিশ্বের প্রতিটি কোণ আপনার স্ক্রিনে স্পষ্টভাবে ভেসে ওঠে? নাসা এখন ঠিক সেই অসাধ্যই সাধন করেছে। নাসা তার সবচেয়ে উন্নত ও শক্তিশালী মহাকাশ টেলিস্কোপের বিশাল, ৩০০-মেগাপিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন ‘চোখ’ উন্মুক্ত করেছে। এটি কেবল একটি ক্যামেরা নয়, বরং মহাবিশ্বের ইতিহাস, ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে জানা এবং অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের এক অনন্য হাতিয়ার – যা বিজ্ঞানের জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে।

Advertisements

নাসার ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ মহাকাশের দিকে তার বিশাল ৩০০-মেগাপিক্সেল চোখ মেলেছে। নাসা সফলভাবে এর প্রধান বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ‘ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্ট’ (Wide Field Instrument) সক্রিয় করেছে। এটি একটি বিশাল ইনফ্রারেড ক্যামেরা যা রোমান টেলিস্কোপের বৈজ্ঞানিক যন্ত্র হিসেবে কাজ করে এবং বিজ্ঞানীদের মহাকাশের বিশাল এলাকা জুড়ে গবেষণা চালানোর সুযোগ করে দেয়।

   

এরই মধ্যে, প্রকৌশলীরা এই যন্ত্রটির আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘করোনাগ্রাফ’-এর প্রাথমিক পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন। এই যন্ত্রটি অন্য নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তনরত গ্রহগুলোর ছবি ধারণে সহায়তা করবে। রোমান টেলিস্কোপটি বর্তমানে মহাকাশে তার নতুন গন্তব্যের পথে রয়েছে।

রোমান প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে

Advertisements

রোমান টেলিস্কোপটি বর্তমানে প্রায় তিন মাসব্যাপী এক যাত্রাপথে রয়েছে। এটি সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দ্বিতীয় ‘সান-আর্থ ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট’ বা ‘এল২’ (L2)-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিন্দুটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখান থেকে টেলিস্কোপটি মহাকাশের এক স্বচ্ছ ও বাধাহীন দৃশ্য দেখতে পাবে।

রোমান টেলিস্কোপটিকে কী বিশেষ করে তোলে?

এই টেলিস্কোপের ওয়াইড-ফিল্ড ক্যামেরাটি একবারে চাঁদের আকারের চেয়েও বড় কোনো এলাকার ছবি ধারণ করতে সক্ষম। এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় অন্তত ১০০ গুণ বড় এলাকা জুড়ে পর্যবেক্ষণ চালাবে এবং ১,০০০ গুণ দ্রুতগতিতে আকাশ জরিপ করবে। অবলোহিত (ইনফ্রারেড) আলো ব্যবহার করে এটি ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার এবং গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করবে। এছাড়া, সৌরজগতের বাইরে নতুন গ্রহ আবিষ্কারের ক্ষেত্রেও এটি সহায়তা করবে।

নাসার তথ্যমতে, এই টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত প্রথম বৈজ্ঞানিক ছবিগুলো ২০২৭ সালের শুরুর দিকে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাস ধরে এর ক্যালিব্রেশন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে; এরপরই এটি মহাবিশ্বের অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করতে শুরু করবে। তাই মহাকাশ – অর্থাৎ নক্ষত্র, গ্যালাক্সি এবং ভিনগ্রহের প্রাণ বা অন্য গ্রহে নতুন কোনো জগতের সন্ধানের বিষয়ে যদি আপনার আগ্রহ থাকে, তবে নাসার এই উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত ছবিগুলো আপনাকে সত্যিই বিস্মিত করতে পারে।

Advertisements