ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ফের উত্তপ্ত সৌদি আরব। মঙ্গলবার দেশের পশ্চিম উপকূলের একাধিক এলাকায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। তালিকায় ছিল ইসলাম ধর্মের পবিত্র শহর মক্কা, জেদ্দা এবং তাইফ। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে এই প্রথম মক্কায় এমন আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করা হল।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফে মক্কায় সতর্কতা জারির পর সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় থাকার এবং সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানায়, মক্কা শহরে বিপদের আশঙ্কা কেটে গিয়েছে। একই সঙ্গে ভিড় না করার এবং কোনও ধরনের ছবি বা ভিডিয়ো না তোলার জন্যও সতর্ক করা হয়।
এই সতর্কতা জারির ঠিক আগের দিনই ইয়েমেন থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের তিনটি শহরে ১৩ জন আহত হন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, খামিস মুশাইত, আবহা এবং তাইফে হামলায় সাতটি বাড়ি ও দু’টি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এরপর মঙ্গলবার জেদ্দা, ইয়ানবু, তাইফ, আবহা, জাজান ও আলউলা-সহ আরও কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করা হয়। ইয়ানবু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই এলাকাগুলিতেও তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গিয়েছে।
এদিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ধ্বংস করেছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোনটি পবিত্র শহরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই সেটিকে আটকানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে হুথিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি নাকচ করে জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযোগ ‘মিথ্যা’। ফলে হামলার প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের সংঘাতও দ্রুত ছড়াচ্ছে। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী এবং হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই ফের তীব্র হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় অগ্রসর হচ্ছে এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান শক্ত করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে কাতারও বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তার গুরুতর আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। ফলে সৌদি-হুথি সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
