নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে মুখোমুখি (Modi Putin)প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজকের বৈঠক ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই বছর এটি তাদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পুতিন মোদীকে (Modi Putin)রাশিয়ায় চব্বিশতম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তারিখ কূটনৈতিক মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।বৈঠকে দুই নেতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষতা বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
তারা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ইনোপ্রম ইন্ডিয়ার সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই প্রদর্শনী প্রথমবারের মতো ভারতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর চলেছে। দুই নেতা নিজেরাও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেছেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এটি বাণিজ্য ও শিল্প সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।ব্রিকসের বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে ভারতের সভাপতিত্বে সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত বিনিময় হয়েছে। (Modi Putin)বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে কথা হয়েছে, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। ভারত শান্তি প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত।দুই নেতা একমত হয়েছেন যে ভারত-রাশিয়ার বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে।
ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে এবং স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাণিজ্য বাড়ানো এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।এই বৈঠক দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতিফলন। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে আজকের জটিল পরিস্থিতিতে ভারত ও রাশিয়া একে অপরের পাশে থেকেছে।
এখন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাইছে। ইনোপ্রম প্রদর্শনী সেই সহযোগিতারই এক উদাহরণ, যেখানে শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
