জনপূর্ত দফতরের সঙ্গে এক যোগে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারে এগিয়ে এল আদানি গ্ৰুপ!

কলকাতা: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে(Writers’ Building)। আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সম্প্রতি জনপূর্ত দফতরের সঙ্গে মিলে এই ঐতিহাসিক ভবনটি পরিদর্শন করেছেন।…

writers-building-restoration-adani

কলকাতা: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে(Writers’ Building)। আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সম্প্রতি জনপূর্ত দফতরের সঙ্গে মিলে এই ঐতিহাসিক ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। কাঠামোগত অবস্থা এবং সম্ভাব্য সংস্কারের পরিসর মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যেকোনো কাজ করতে হলে ভবনের ঐতিহ্যবাহী চরিত্র, সম্মুখভাগ এবং মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

Advertisements

রাইটার্স বিল্ডিং শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়। (Writers’ Building)এটি বাংলার ঔপনিবেশিক ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং প্রশাসনিক ঐতিহ্যের প্রতীক। লাল ইটের এই ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এর সংরক্ষণ কাজ পিছিয়েছে। এখন যদি বড় কোনো উদ্যোগ আসে, তাহলে দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতা কাটতে পারে বলে অনেকে আশা করছেন।আদানি গোষ্ঠী ইতিমধ্যে কলকাতায় ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজে যুক্ত হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ বাংলার সরকারি স্কুল হবে আরও পরিবেশের কাছাকাছি! ৩০০ কোটির অনুমোদন সরকারের

কুমারটুলি ঘাটের সংস্কার প্রকল্পে তাঁরা অংশ নিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের মতো আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হাত দিতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সবকিছু নির্ভর করছে অনুমোদন এবং বিস্তারিত পরিকল্পনার ওপর।গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আসতে পারেন।

Advertisements

নিউটাউনে আদানি আরোগ্য মন্দির প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে তাঁর এই সফর। (Writers’ Building)এই সফরকালে রাইটার্স বিল্ডিং সংক্রান্ত পরিকল্পনা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, তাহলে বিষয়টি নতুন মাত্রা পাবে। স্বাস্থ্যখাতে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গোষ্ঠীর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।ঐতিহ্যবাহী ভবন সংস্কারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল আধুনিক চাহিদার সঙ্গে পুরনো স্থাপত্যের সমন্বয়।

রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও তাই হবে। সম্মুখভাগের নকশা, খিলান, কারুকাজ সবকিছু অপরিবর্তিত রেখে ভিতরের কাঠামো মজবুত করতে হবে। জনপূর্ত দফতর এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে কাজ হলে তবেই এর আসল চরিত্র রক্ষা পাবে।কলকাতার মানুষ এই ভবনের প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী। মহাকরণ নামে পরিচিত এই স্থাপনা শহরের প্রাণকেন্দ্র বিবাদী বাগের পরিচয় বহন করে।

দীর্ঘদিন ধরে এর সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেও কাজের গতি ছিল ধীর। (Writers’ Building)এখন যদি বেসরকারি অংশীদারিত্বে দ্রুত অগ্রগতি হয়, তাহলে এটি অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার জন্যও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।তবে সতর্কতাও জরুরি। ঐতিহ্য সংরক্ষণ শুধু দেখতে সুন্দর করা নয়। এর ঐতিহাসিক মূল্য, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং জনগণের আবেগকে সম্মান জানিয়ে কাজ করতে হবে। কোনো পরিবর্তনই যেন এর আত্মাকে ক্ষুণ্ণ না করে। আদানি গোষ্ঠী যদি এই দায়িত্ব নেয়, তাহলে স্বচ্ছতা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

Advertisements