কলকাতা: ভারতের প্রথম টার্বোচার্জড ফ্যাক্টরি-ফিটেড CNG গাড়ি হিসেবে Tata Nexon iCNG-কে ঘিরে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পেট্রোল Nexon-এর ১.২-লিটার টার্বো ইঞ্জিনের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই CNG মডেলে রয়েছে টুইন CNG ট্যাঙ্ক, যা বুট ফ্লোরের নিচে বসানো হয়েছে। এবার বাস্তব রাস্তায় চালিয়ে দেখা হল Nexon iCNG-এর আসল জ্বালানি দক্ষতা।
Nexon iCNG-এর দাম শুরু হচ্ছে ৮,৩৪,৯৯০ টাকা থেকে এবং টপ-স্পেক Fearless+PS ভ্যারিয়েন্টের দাম ১৩,২৯,৯৯০ টাকা। একই পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় CNG মডেলের দাম প্রায় ৭০,০০০ থেকে ১,১৫,০০০ টাকা বেশি।
Nexon iCNG-তে কত মাইলেজ মিলল?
বাস্তব পরীক্ষায় Tata Nexon iCNG শহরের রাস্তায় দিয়েছে ১৫.১ কিলোমিটার/কেজি এবং হাইওয়েতে দিয়েছে ২৩.৭ কিলোমিটার/কেজি। অর্থাৎ দুই ধরনের রাস্তা মিলিয়ে গাড়িটির গড় বাস্তব মাইলেজ দাঁড়িয়েছে ১৯.৪ কিলোমিটার/কেজি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হাইওয়েতে পাওয়া ২৩.৭ কিলোমিটার/কেজি মাইলেজ কোম্পানির দাবি করা ২৪ কিলোমিটার/কেজি ARAI মাইলেজের খুব কাছাকাছি।
আরও পড়ুন: Kawasaki Z650 S, Z900 ও Z900 SE-তে নতুন রঙ, বদলাল না ইঞ্জিন বা ফিচার
১.২-লিটার টার্বো ইঞ্জিন, তবে শক্তি কম
Nexon iCNG-তে রয়েছে ১.২-লিটার, তিন-সিলিন্ডার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন, যা সাধারণ Nexon-এও ব্যবহার করা হয়। তবে CNG মোডে ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ শক্তি কমে গিয়েছে। পেট্রোল ভার্সনের মতোই CNG মডেলে সর্বোচ্চ টর্ক ১৭০ এনএম। তবে পাওয়ার কমে হয়েছে ১০০ এইচপি, যা পেট্রোল সংস্করণের তুলনায় ২০ এইচপি কম। ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স।
বুটের নিচে টুইন CNG ট্যাঙ্ক
Nexon iCNG-এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এর টুইন-ট্যাঙ্ক CNG ব্যবস্থা। দুটি ট্যাঙ্ক মিলিয়ে কোম্পানি মোট ৬০ লিটার বা ৯ কেজি CNG ধারণক্ষমতার কথা জানিয়েছে। ট্যাঙ্কগুলি বুটের নিচে বসানো হয়েছে। ফলে CNG সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও গাড়িতে ৩২১ লিটার লাগেজ স্পেস রাখা সম্ভব হয়েছে। টপ-স্পেক মডেলটির কার্ব ওয়েট প্রায় ১,৩৯৮ কেজি।
আরও পড়ুন:১৯.৪৯ লক্ষ টাকায় MG Hector Tomahawk EV, বাড়িতেও বিদ্যুৎ দেবে এই SUV
বাস্তবে কত CNG ভরা গেল?
খালি ট্যাঙ্ক থেকে CNG ভরার সময় পরীক্ষায় ৭.৫ কেজি গ্যাস ঢুকেছে, যেখানে Tata-র দাবি ৯ কেজি। তবে CNG ট্যাঙ্কে কতটা গ্যাস ঢুকবে, তা পরিবেশের তাপমাত্রা এবং পাম্পের চাপের উপর নির্ভর করে। তাই অনুকূল পরিস্থিতিতে ৮.৫ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত CNG ভরা সম্ভব হতে পারে। ১৯.৪ কিলোমিটার/কেজি গড় বাস্তব মাইলেজ ধরে একবার সম্পূর্ণ CNG ভরলে Nexon iCNG-এর বাস্তব রেঞ্জ আনুমানিক ১৪৫ থেকে ১৬০ কিলোমিটার হতে পারে।
কীভাবে মাইলেজ পরীক্ষা করা হয়েছে?
CNG গাড়ির ক্ষেত্রে ট্যাঙ্ক প্রতিবার একই পরিমাণে ভরার নিশ্চয়তা থাকে না। তাপমাত্রা এবং পাম্পের চাপের মতো বিষয় এতে প্রভাব ফেলে। তাই প্রচলিত ট্যাঙ্ক-টু-ট্যাঙ্ক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। পরীক্ষার জন্য প্রথমে CNG ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খালি করা হয়। এরপর ২ কেজি CNG ভরে গাড়িটিকে শহরের নির্দিষ্ট রুটে চালানো হয়, যতক্ষণ না গ্যাস শেষ হয়ে যায়। একই পদ্ধতিতে হাইওয়েতেও পরীক্ষা করা হয়েছে। পুরো পরীক্ষায় গাড়িটি শুধুমাত্র CNG মোডে চালানো হয়েছে।
পরীক্ষার সময় কী কী শর্ত ছিল?
পরীক্ষার আগে প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত মাত্রা অনুযায়ী টায়ারের চাপ ঠিক করা হয়েছিল। শহর ও হাইওয়ের নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালানো হয়েছে এবং নির্দিষ্ট গড় গতি বজায় রাখা হয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে ছিলেন মাত্র একজন ব্যক্তি। এয়ার কন্ডিশনার ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফুল-অটো মোডে রাখা হয়েছিল। অডিও সিস্টেম, ইন্ডিকেটর, ওয়াইপারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও সাধারণ ব্যবহারকারীর মতোই ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষায় বিভিন্ন সময়ে চালক পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে কোনও নির্দিষ্ট চালকের ড্রাইভিং স্টাইল মাইলেজের ফলকে অতিরিক্ত প্রভাবিত না করে।

সার্বিকভাবে, Tata Nexon iCNG-এর সবচেয়ে বড় চমক হাইওয়ে মাইলেজে। ২৩.৭ কিলোমিটার/কেজি ফলাফল কোম্পানির ২৪ কিলোমিটার/কেজি দাবির খুব কাছাকাছি। শহরে মাইলেজ কিছুটা কমে ১৫.১ কিলোমিটার/কেজি হলেও, দুই পরিস্থিতি মিলিয়ে প্রায় ১৯.৪ কিলোমিটার/কেজি বাস্তব গড় পাওয়া গিয়েছে।
