ভারতের বাজারে মারুতি সুজুকি ব্যালেনো (Maruti Baleno) ফেসলিফট লঞ্চ করল মারুতি সুজুকি। নতুন ২০২৬ মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ৬.১০ লাখ টাকা, এক্স-শোরুম থেকে। নতুন ব্যালেনোতে ডিজাইনের পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও ফিচার, সেফটি এবং পাওয়ারট্রেনে বড় আপডেট আনা হয়েছে।
বিশেষ করে লেভেল ২ এডিএএস, নতুন ১.২-লিটার জেড-সিরিজ ইঞ্জিন, ভেন্টিলেটেড সিট এবং অটোমেটিক সিএনজি-র মতো সংযোজন নতুন ব্যালেনোকে আগের মডেলের তুলনায় আরও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলেছে।
ডিজাইনে সামান্য পরিবর্তন
২০২৬ মারুতি সুজুকি ব্যালেনোতে আগের মডেলের পরিচিত সিলুয়েট বজায় রাখা হয়েছে। তবে সামনে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রজেক্টর এলইডি হেডল্যাম্পের ডিজাইন সামান্য বদলানো হয়েছে এবং এর মধ্যে ডিআরএল বা ডে-টাইম রানিং লাইট রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন ডিজাইনের গ্রিল এবং নতুন ফ্রন্ট বাম্পার দেওয়া হয়েছে। পিছনের ডিজাইন আগের ব্যালেনোর মতোই রাখা হয়েছে। তবে এবার শার্ক-ফিন অ্যান্টেনা যুক্ত হয়েছে।সাইড প্রোফাইলেও বড় কোনও পরিবর্তন নেই। নতুন অ্যালয় হুইলের মাধ্যমে পার্থক্য তৈরি করা হয়েছে। রঙের তালিকায় নতুন সংযোজন হল এনিগম্যাটিক টিল।

কেবিনে ডুয়াল-টোন থিম
নতুন ব্যালেনোর কেবিনে নীল এবং কালো রঙের ডুয়াল-টোন লেআউট ব্যবহার করা হয়েছে। ড্যাশবোর্ডের সামগ্রিক ডিজাইন আগের মডেলের কাছাকাছি রাখা হয়েছে। মাঝখানে রয়েছে ফ্লোটিং ইনফোটেনমেন্ট স্ক্রিন। এর নিচে গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ফিজিক্যাল বাটন দেওয়া হয়েছে। স্টিয়ারিং হুইলের ডিজাইনেও বড় পরিবর্তন করা হয়নি। এতে আগের মতোই মাউন্টেড কন্ট্রোল রয়েছে।
প্রথমবার সেগমেন্টে ভেন্টিলেটেড সিট
নতুন ব্যালেনোর অন্যতম বড় ফিচার হল ফ্রন্ট ভেন্টিলেটেড সিট। মারুতি সুজুকির দাবি, এটি সেগমেন্টে প্রথমবারের মতো এই সুবিধা। এছাড়াও রয়েছে ওয়্যারলেস চার্জার, ক্ল্যারিয়ন সাউন্ড সিস্টেম, টিপিএমএস বা টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম এবং আরও বেশ কিছু সুবিধা। তবে নতুন ব্যালেনোর সবচেয়ে বড় আপগ্রেড এসেছে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে।
লেভেল ২ এডিএএস ও ৬টি এয়ারব্যাগ
২০২৬ ব্যালেনোতে ৬টি এয়ারব্যাগ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে লেভেল ২ এডিএএস বা অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম। এডিএএস প্যাকেজে রয়েছে:
- অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল
- লেন কিপ অ্যাসিস্ট
- লেন ডিপার্চার প্রিভেনশন
- লেন ডিপার্চার ওয়ার্নিং
- হাই বিম অ্যাসিস্ট
- ফরোয়ার্ড কলিশন ওয়ার্নিং
এর ফলে ব্যালেনো এখন শুধু আরাম ও ফিচারের দিক থেকেই নয়, সক্রিয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত হয়েছে।
নতুন ১.২-লিটার Z-Series ইঞ্জিন
নতুন ব্যালেনোর পাওয়ারট্রেনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এতে দেওয়া হয়েছে ১.২-লিটার জেড-সিরিজ ইঞ্জিন, যা ইতিমধ্যেই নতুন প্রজন্মের সুইফট এবং ডিজায়ার-এ ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইঞ্জিনের সঙ্গে ম্যানুয়াল এবং অটোমেটিক ট্রান্সমিশন দুটিরই অপশন রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সংযোজন হল, এবার ব্যালেনোর সিএনজি সংস্করণের সঙ্গেও অটোমেটিক ট্রান্সমিশন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সিএনজির তুলনামূলক কম চলতি খরচের সঙ্গে অটোমেটিক গাড়ি চালানোর সুবিধাও পাওয়া যাবে।
Hyundai i20 ও Tata Altroz-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
নতুন ফিচার, উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং নতুন ইঞ্জিনের মাধ্যমে মারুতি সুজুকি ব্যালেনো ফের হুন্ডাই আই২০ এবং টাটা আলট্রোজ-এর মতো মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।
৬.১০ লাখ টাকার প্রারম্ভিক দাম এবং লেভেল ২ এডিএএস, ভেন্টিলেটেড সিট ও সিএনজি-অটোমেটিকের মতো ফিচার যোগ হওয়ায় ২০২৬ ব্যালেনো প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক সেগমেন্টে আরও শক্তিশালী প্যাকেজ হয়ে উঠেছে।
