Renault Clio V6: হট হ্যাচ ইঞ্জিনে পাগলামির চূড়ান্ত পর্যায়ে ফরাসিরা

নয়াদিল্লি: সাধারণত ‘হট হ্যাচ’ বললে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এমন একটি ছোট হ্যাচব্যাক, যার সাধারণ গাড়ির তুলনায় একটু শক্তিশালী ইঞ্জিন থাকে।  শহরের যানজট পেরিয়ে দ্রুত…

renault-clio-v6-rs-3-0-litre-v6-mid-engine-hot-hatch-history

নয়াদিল্লি: সাধারণত ‘হট হ্যাচ’ বললে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এমন একটি ছোট হ্যাচব্যাক, যার সাধারণ গাড়ির তুলনায় একটু শক্তিশালী ইঞ্জিন থাকে।  শহরের যানজট পেরিয়ে দ্রুত ছুটতে পারে, ছোট পার্কিং স্পটে ঢুকে যায় এবং হাইওয়েতেও যথেষ্ট স্বচ্ছন্দে চলতে পারে। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে রেনল্ট হট হ্যাচের (Renault Clio V6) এই সংজ্ঞাটাই কার্যত বদলে দিয়েছিল।

Advertisements

১৯৯৮ সালে রেনল্ট এমন একটি গাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়, যা সেই সময়ের প্রচলিত ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। ছোট Clio-র ভিতরে বসানো হয় বিশাল ৩.০-লিটার V6 ইঞ্জিন। জন্ম নেয় Renault Clio V6 RS। আর এখানেই শেষ নয়, ইঞ্জিনটি রাখা হয়েছিল পিছনের যাত্রী আসনের জায়গায়। ফলে এটি হয়ে ওঠে দুই আসনের, রিয়ার-হুইল-ড্রাইভের এক ভয়ংকর শক্তিশালী হট হ্যাচ।

   

পরবর্তীকালে Clio V6-এর পরিচিতি আরও কিংবদন্তির মতো হয়ে ওঠে। অনির্ভরযোগ্যতা এবং বুনো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য গাড়িটির বেশ কুখ্যাতিও তৈরি হয়েছিল।

Clio থেকে V6: সম্পূর্ণ বদলে গেল গাড়ি

Clio V6-এর প্রথম প্রজন্ম বা Phase 1 তৈরিতে রেনল্ট সাহায্য নিয়েছিল Tom Walkinshaw Racing (TWR)-এর। অন্যদিকে ২০০৩ সালে আসা Phase 2 ডিজাইন ও হাতে তৈরি করেছিল ফ্রান্সের Dieppe-তে অবস্থিত Renault Sport।

Advertisements

দুই প্রজন্মের উন্নয়নেই TVR-এর ভূমিকা ছিল। ডিজাইনের ক্ষেত্রে Clio V6-এ পুরনো Renault 5 Turbo-এর বেশ কিছু প্রভাব দেখা যায়। দুই গাড়িই ছিল অত্যন্ত কম উৎপাদনের মডেল, ফলে বর্তমানে এগুলি বেশ বিরল।

Phase 1: ২০০১-২০০৩

Clio V6-এর ভিত্তি ছিল Clio Mk II, কিন্তু সাধারণ Clio-এর সঙ্গে গাড়িটির মিল কার্যত নাম এবং কিছু মৌলিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

PSA Group-এর কাছ থেকে পাওয়া ৩.০-লিটার, ৬০-ডিগ্রি V6 ES9 ইঞ্জিনকে আপগ্রেড করে প্রায় ২২৭ bhp শক্তি তৈরি করা হয়েছিল। ইঞ্জিনটি বসানো হয়েছিল গাড়ির মাঝামাঝি অংশে, যেখানে সাধারণ Clio-তে থাকত পিছনের আসন।

ফলে পাঁচ আসনের ছোট হ্যাচব্যাক কার্যত পরিণত হয় দুই আসনের স্পোর্টস কারে।

রিয়ার-হুইল-ড্রাইভ এবং মিড-ইঞ্জিন সেটআপের জন্য গাড়ির চ্যাসিস, সাসপেনশন এবং অন্যান্য অংশে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। সামনে ইঞ্জিন ও ফ্রন্ট-হুইল-ড্রাইভ হ্যাচব্যাক থেকে এটি হয়ে উঠেছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের একটি মেশিন।

ওজনের দিক থেকেও Clio V6 ছিল বেশ ভারী। সবচেয়ে স্পোর্টি Clio 172 Cup-এর তুলনায় এটি প্রায় ৩০০ কেজি বেশি ভারী ছিল।

২২৭ bhp শক্তি থাকা সত্ত্বেও ০-১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পৌঁছতে সময় লাগত ৬.২ সেকেন্ড। ১৭২ Cup-এর সময় ছিল ৬.৭ সেকেন্ড। অর্থাৎ ত্বরণের পার্থক্য খুব বেশি ছিল না।

তবে সর্বোচ্চ গতিতে পার্থক্য ছিল বেশি। Clio 172 Cup-এর ২২২ কিমি/ঘণ্টার পরিবর্তে V6 পৌঁছতে পারত ২৩৫ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত।

Phase 2: আরও শক্তিশালী, আরও ভয়ংকর

২০০৩ সালে আসে Phase 2 Clio V6। এই সংস্করণটিই গাড়িটিকে আরও কিংবদন্তি করে তোলে।

Phase 2-তে শক্তি বেড়ে দাঁড়ায় ২৫২ bhp। সেই সময় এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সিরিজ-প্রোডাকশন হট হ্যাচ হিসেবে পরিচিতি পায়। এমনকি Alfa Romeo 147 GTA-এর ২৪৭ bhp শক্তিকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল এটি।

ওজন আরও বেড়েছিল, কিন্তু অতিরিক্ত শক্তির কারণে পারফরম্যান্সও যথেষ্ট উন্নত হয়। ০-১০০ কিমি/ঘণ্টা স্প্রিন্টে সময় কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫.৯ সেকেন্ড। সর্বোচ্চ গতি বেড়ে হয় ২৪৬ কিমি/ঘণ্টা।

প্রতিদিন চালানোর গাড়ি ছিল না

Clio V6-এর চেহারা ও পারফরম্যান্স যতটা আকর্ষণীয় ছিল, ব্যবহারিক দিক থেকে এটি ছিল ঠিক তার উল্টো। দুই আসনের কেবিন এবং সীমিত লাগেজ স্পেসের কারণে প্রতিদিনের পরিবারের গাড়ি হিসেবে এটি খুব একটা উপযুক্ত ছিল না।

স্টিয়ারিংও এমনভাবে সেট করা হয়েছিল যাতে আঁটসাঁট জায়গায় দ্রুত ম্যানুভার করা যায়। ফলে চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল যথেষ্ট আলাদা এবং অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং।

তারপরও গাড়িটির আকর্ষণ ছিল অন্য জায়গায়। রেনল্ট সেই সময়ের জন্য বেশ কিছু আধুনিক ফিচারও দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল রেন সেন্সিং উইন্ডস্ক্রিন ওয়াইপার, অটোমেটিক হেডলাইট, ছয়টি স্পিকার এবং CD চেঞ্জার।

সব মিলিয়ে Renault Clio V6 ছিল এমন একটি গাড়ি, যেখানে ছোট হ্যাচব্যাকের শরীরে বসানো হয়েছিল স্পোর্টস কারের হৃদয়। ব্যবহারিকতা বা যুক্তির বদলে পারফরম্যান্স, অদ্ভুত ইঞ্জিন প্লেসমেন্ট এবং নিছক পাগলামিকেই যেন অগ্রাধিকার দিয়েছিল রেনল্ট। আর সেই কারণেই আজও Clio V6-কে বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত ও স্মরণীয় হট হ্যাচগুলির অন্যতম হিসেবে দেখা হয়।

Advertisements