কলকাতা: হাওড়ার দীর্ঘদিনের জলজট সমস্যা মেটাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে (master plan)পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভা ৪ হাজার ৭০২ কোটি টাকার একটি মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাওড়া ও বালির নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে আধুনিকায়ন করা হবে। অর্থায়নের ৭০ শতাংশ আসবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবি থেকে এবং বাকি ৩০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার।
কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এবং পাঁচ বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।হাওড়া শহরের বাসিন্দারা প্রতি বর্ষায় জলজটের ভোগান্তিতে পড়েন। (master plan)সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে শিবপুর রোড, পঞ্চাননতলা রোডসহ বেশ কয়েকটি গলি প্লাবিত হয়েছে। দক্ষিণ হাওড়ার চুনাবতী, থানামাকুয়া ও বিবেকানন্দনগরেও জল জমেছে। রাস্তাঘাট অচল হয়ে পড়ে, দোকানপাট বন্ধ থাকে, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সমস্যায় পড়েন।
এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই মাস্টারপ্ল্যান (master plan)তৈরি করা হয়েছে।প্রকল্পের আওতায় পুরনো নালা-নর্দমা সংস্কার, নতুন ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ, পাম্পিং স্টেশন স্থাপন এবং বৃষ্টির জল দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। কেএমডিএ ও সেচ দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগোবে। হাওড়া পুরনিগমও এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঁচ বছরের মধ্যে শহরের জলজট সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে শ্যামপুরের বাসুদেবপুরে বাঁধ সংরক্ষণের কাজ চলছে। (master plan)সন্দেশখালিতে ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে রায়মঙ্গল বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট ভেঙে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এই ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ ও নিকাশি ব্যবস্থার গুরুত্ব কতটা।
হাওড়ার বাসিন্দারা এই অনুমোদনের খবরে স্বস্তি পেয়েছেন। (master plan)অনেকে বলছেন, এতদিন শুধু আলোচনা হয়েছে, এবার কাজ শুরু হলে প্রকৃত উপকার পাওয়া যাবে। ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী। জলজট কমলে বাজার-দোকান স্বাভাবিক থাকবে, যাতায়াত সহজ হবে।এই মাস্টারপ্ল্যান শুধু হাওড়ার জন্য নয়, পুর কলকাতা মহানগর এলাকার নগর পরিকল্পনার অংশ।
আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা শহরকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও সাহায্য করবে। ভারী বৃষ্টির সময় জল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া গেলে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকবে।মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট চূড়ান্ত করে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হলে পাঁচ বছর পর হাওড়ার চেহারা বদলে যেতে পারে। জলজটমুক্ত হাওড়া এটাই বাসিন্দাদের স্বপ্ন। সরকারের এই উদ্যোগ সেই স্বপ্ন পূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
