মঙ্গলে জেলিফিশের মতো প্রাণীর সন্ধান পেল নাসার রোভার! ছবিটি কাড়ল সবার নজর

Jellyfish Floating on Mars: নাসা বেশ কয়েক বছর ধরে মঙ্গলে অনুসন্ধানমূলক অভিযান চালিয়ে আসছে। তাদের ‘কিউরিওসিটি’ রোভারটি অবিরামভাবে এই গ্রহটি অন্বেষণ করে চলেছে। নাসা মঙ্গল…

Mars Jellyfish

Jellyfish Floating on Mars: নাসা বেশ কয়েক বছর ধরে মঙ্গলে অনুসন্ধানমূলক অভিযান চালিয়ে আসছে। তাদের ‘কিউরিওসিটি’ রোভারটি অবিরামভাবে এই গ্রহটি অন্বেষণ করে চলেছে। নাসা মঙ্গল গ্রহ থেকে সত্যিই এক বিস্ময়কর ছবি পেয়েছে; রোভারটি পাথরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা অদ্ভুত এক প্রাণীর মতো আকৃতিকে ক্যামেরাবন্দী করেছে। এই দৃশ্য দেখে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়েছেন। ছবিটি মঙ্গলের ‘গেল ক্রেটার’ (Gale Crater) এলাকায় তোলা হয়েছিল। এই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হচ্ছে। আসুন, মঙ্গলে থাকা এই ট্রাইপডের পেছনের রহস্যটি জেনে নেওয়া যাক!

Advertisements

নাসার কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলে একটি বিস্ময়কর ছবি তুলেছে। ছবিটি ইন্টারনেটে সবার নজর কেড়েছে। প্রথম দেখায় মনে হয় যেন মঙ্গল গ্রহের পাথুরে পৃষ্ঠে একটি ট্রাইপড বসানো হয়েছে—ঠিক যেন সেখানে কোনো সিনেমার শুটিং চলছে। কেউ কেউ এটিকে জেলিফিশের সাথে তুলনা করছেন। এই অদ্ভুত আকৃতিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে; কেউ কেউ এটিকে যুদ্ধের যন্ত্র বলছেন, আবার কারও কারও মতে এটি একটি উড়ন্ত প্রাণী।

   

তবে, বিজ্ঞানীরা কথিত সেই ক্যামেরা ট্রাইপড বা জেলিফিশের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি সম্ভবত কিউরিওসিটি রোভারের ‘ন্যাভক্যাম’ (NavCam) সেন্সরে উচ্চ-শক্তির কোনো কণার আঘাতের ফলে সৃষ্ট একটি ‘ইমেজ আর্টিফ্যাক্ট’ বা ছবির ত্রুটি। এ ধরনের ঘটনা সাধারণত অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী হয় এবং কেবল একটি ফ্রেমেই দৃশ্যমান হতে পারে।

ছবিটি ২০ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে রোভারের ডানদিকের নেভিগেশন ক্যামেরা দিয়ে তোলা হয়েছিল। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ক্যামেরাটি এর আগে একই ফ্রেমিংয়ে দুটি ছবি তুলেছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিতেই এমন কোনো আকৃতি দেখা যায়নি। এটি থেকে ধারণা করা যায় যে, বিষয়টি ক্যামেরার কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে; সেখানে ট্রাইপডের মতো কোনো কিছু থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

Advertisements

সায়েন্সঅ্যালার্ট-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলে এ ধরনের দৃশ্য দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিউরিওসিটি এবং নাসার অন্যান্য রোভারে সিসিডি (CCD)-ধরণের সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এই সেন্সরগুলো মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির কণার সংস্পর্শে আসে। কোনো কণা যখন সেন্সরে আঘাত করে, তখন তা তোলা ছবিতে একটি উজ্জ্বল বা অন্ধকার বিন্দু, রেখা কিংবা কোনো অদ্ভুত দাগ তৈরি করতে পারে।

মঙ্গলে এই ঘটনাটি প্রায়ই ঘটে, কারণ গ্রহটির কোনো সামগ্রিক চৌম্বক ক্ষেত্র নেই এবং এর বায়ুমণ্ডলের ভর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভরের মাত্র ০.৫ শতাংশ। ফলে, মহাকাশ থেকে ধেয়ে আসা কণাগুলোকে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা গ্রহটির নেই। এই কণাগুলো প্রায়ই ক্যামেরার লেন্সে আঘাত হানে, যার ফলে এ ধরনের আকৃতি তৈরি হওয়া একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

Advertisements