তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পারদ চড়ছে। এবার হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করল ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC)। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তাদের আকাশসুরক্ষা ব্যবস্থা নিখুঁত নিশানায় মার্কিন ড্রোনটিকে ধ্বংস করেছে। যদিও আমেরিকার তরফে এখনও বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোনেরই একটি ভ্যারিয়েন্ট ‘এমকিউ-৯বি সি গার্জিয়ান’ (MQ-9B Sea Guardian) ব্যবহার করে ভারতীয় নৌসেনা।
প্রেক্ষাপট ও ড্রোনের ক্ষমতা
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে ইরানের দু’টি রকেট লঞ্চার ধ্বংস করে মার্কিন সেনা। পালটা জর্ডনে মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এই উত্তেজনার মাঝেই ৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ড্রোন নামানোর দাবি করল তেহরান। উল্লেখ্য, এই ড্রোনের দাম পাকিস্তানের জেএফ-১৭ (২৫ মিলিয়ন) বা ভারতের তেজস (৪০-৪৫ মিলিয়ন) যুদ্ধবিমানের চেয়েও বেশি। একটানা ২৭ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম এই ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি হেলফায়ার মিসাইল ও লেজ়ার-গাইডেড বোমা ছুড়তে পারে। তবে এর নিজস্ব কোনও অ্যান্টি-মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।
কোথায় আলাদা ভারতের সি-গার্জিয়ান?
ইরানের হাতে ধ্বংস হওয়া মার্কিন ড্রোনটির সঙ্গে ভারতের হাতে থাকা ড্রোনের বিস্তর ফারাক রয়েছে। ‘রিপার’ যেখানে স্থল ও জলভাগে নিখুঁত হামলার জন্য তৈরি, সেখানে ভারতের ‘সি-গার্জিয়ান’ মূলত সামুদ্রিক নজরদারির জন্য বিশেষ সেন্সরযুক্ত। এর একটানা ওড়ার ক্ষমতাও বেশি (৩০ ঘণ্টা)। রিপারের মতো এতে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অস্ত্র না থাকলেও, এটি সাবমেরিন ট্র্যাক করতে দারুণভাবে সক্ষম, যা ড্রোনের ক্ষেত্রে বিরল।
ভারত সম্প্রতি ১৯৪৩ কোটি টাকায় দু’টি সি-গার্জিয়ান লিজ নিয়েছে। এছাড়া গত অক্টোবরে ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে আমেরিকা থেকে মোট ৩১টি এমকিউ-৯বি ড্রোন (১৫টি নৌসেনার জন্য সি-গার্জিয়ান এবং ১৬টি সেনা ও বায়ুসেনার জন্য স্কাই-গার্জিয়ান) কেনার চুক্তিও সম্পন্ন করেছে ভারত।
উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান ‘অলিয় দারাজালি দোস্তলিকে’ ভূষিত মোদী
প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নতুন প্রাণ অন্নেষণ! ভরসা স্পেস এক্সের ফ্যালকন
