Kyiv Drone Attack: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে পৌঁছেছে। এখনও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়েভের পশ্চিমে মিলা এলাকায় অবস্থিত একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্রে রুশ ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। এরপর সেখানে মজুত থাকা গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। পরপর একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গোলাবারুদ বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ
ওই সামরিক সংরক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম রাখা ছিল। এর মধ্যে ছিল আর্টিলারি শেল, মাইন, ড্রোন এবং অন্যান্য গোলাবারুদ। প্রাথমিক রুশ হামলার পর সংরক্ষণ করা গোলাবারুদে আগুন ধরে যায়। এরপর একের পর এক সেকেন্ডারি বিস্ফোরণ শুরু হয়। বিস্ফোরণের ফলে শেল ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ আশপাশের আবাসিক এলাকায় ছিটকে পড়ে। বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছু জায়গায় অবিস্ফোরিত গোলাবারুদও পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকারী দল এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালাচ্ছে।
গোলাবারুদ মজুত নিয়েই প্রশ্ন তুললেন জেলেনস্কি
এই ঘটনার পর ইউক্রেনের সামরিক গোলাবারুদ সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির কাছাকাছি বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ মজুত রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, শুধু রুশ হামলাই নয়, গোলাবারুদ সংরক্ষণে সম্ভাব্য অব্যবস্থাপনাও হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অডিটের নির্দেশ দিয়েছে।
কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ঘটনা
কিয়েভের কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্রে এই ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা নতুন নয়। এর আগে জুলাই মাসে ভিশনেভে এলাকায় একটি অন্য গোলাবারুদ কেন্দ্রে বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার পর থেকেই জনবসতির কাছাকাছি সামরিক বিস্ফোরক সংরক্ষণ নিয়ে ইউক্রেনের ভিতরে প্রশ্ন উঠছিল। মিলা এলাকার বিস্ফোরণ সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
কিয়েভের উপর রুশ হামলা বাড়ছে
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন কিয়েভ এবং ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের উপর রাশিয়া বিমান হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় জেটচালিত ড্রোন এবং প্রচলিত আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করছে বলে ইউক্রেনের দাবি। এর ফলে ইউক্রেনের ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে থাকা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর আরও চাপ তৈরি হচ্ছে। জেলেনস্কির দাবি, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রায় ২,০০০টি আক্রমণাত্মক ড্রোন, ১,৬০০টির বেশি বোমা এবং ৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই হামলাগুলির লক্ষ্য ছিল সামরিক পরিকাঠামোর পাশাপাশি জ্বালানি, লজিস্টিক এবং শিল্পক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি জেলেনস্কির
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রতিটি হামলা এবং অপরাধের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে ইউক্রেন। তাঁর বক্তব্য, রুশ হামলার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া আসবেই। তবে মিলা এলাকার ভয়াবহ বিস্ফোরণ একইসঙ্গে ইউক্রেনের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে: যুদ্ধের মধ্যে সামরিক গোলাবারুদ কোথায় এবং কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তার নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে?
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
