কলকাতা: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নতুন স্মার্টফোন (Smartphone ) কেনার সময় স্টোরেজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। শক্তিশালী প্রসেসর থাকলে হাই-এন্ড গেম খেলা যায়, উন্নত ক্যামেরায় উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি ও ভিডিও তোলা যায়, কিন্তু এগুলির প্রত্যেকটিই ফোনের স্টোরেজ খুব দ্রুত ভরিয়ে দিতে পারে।
একসময় ৬৪ জিবি স্টোরেজের ফোন বেশ সাধারণ ছিল। কিন্তু এখন ৬৪ জিবি প্রায় অচল। বাজেট ও মিড-রেঞ্জ ফোনে ১২৮ জিবি সাধারণত বেস স্টোরেজ হিসেবে পাওয়া যায়। আবার কিছু ফ্ল্যাগশিপ ফোনে ২৫৬ জিবি স্টোরেজই বেস ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশ্ন হল, সবার কি সত্যিই ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি কিংবা ১ টিবি স্টোরেজ দরকার? এর উত্তর নির্ভর করে আপনি স্মার্টফোনটি কীভাবে ব্যবহার করেন তার উপর।
কেন স্মার্টফোনের স্টোরেজ গুরুত্বপূর্ণ?
স্মার্টফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজেই আপনার ছবি, ভিডিও, অ্যাপ, মিউজিক, ডকুমেন্ট এবং অন্যান্য ফাইল জমা থাকে। ফোন যত দিন ব্যবহার করবেন, এই ফাইলের পরিমাণও তত বাড়বে। তবে ফোনে যে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি লেখা থাকে, পুরোটা ব্যবহার করার জন্য পাওয়া যায় না। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং বিভিন্ন সিস্টেম ফাইল আগে থেকেই কিছুটা জায়গা দখল করে রাখে।
উদাহরণস্বরূপ, ২৫৬ জিবি স্টোরেজের একটি ফোনে বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য জায়গা প্রায় ২৩৫ থেকে ২৩৮ জিবির মধ্যে হতে পারে। বাকি অংশ সিস্টেম ফাইলের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সফটওয়্যার আপডেট, অ্যাপের ডেটা এবং অস্থায়ী ফাইলের জন্য কিছু স্টোরেজ খালি রাখা দরকার।
আপনি কী ধরনের কনটেন্ট রাখছেন, তার উপরেও স্টোরেজ ব্যবহারের পরিমাণ নির্ভর করে। একটি উচ্চমানের ছবি কয়েক মেগাবাইট জায়গা নিতে পারে। অন্যদিকে কয়েক মিনিটের ৪কে ভিডিওতেই কয়েক জিবি স্টোরেজ খরচ হয়ে যেতে পারে।
গেমারদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন আরও বেশি। জেনশিন ইমপ্যাক্ট এবং ওয়াদারিং ওয়েভসের মতো বড় গেম একাধিক জিবি স্টোরেজ দখল করতে পারে। এর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া ও স্ট্রিমিং অ্যাপের ক্যাশ ডেটাও সময়ের সঙ্গে জমতে থাকে।
১২৮ জিবি কি স্মার্টফোনের জন্য যথেষ্ট?
বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য ১২৮ জিবি এখনও যথেষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে যারা মূলত মেসেজিং, সোশ্যাল মিডিয়া, স্ট্রিমিং, সাধারণ ছবি তোলা এবং দৈনন্দিন অ্যাপ ব্যবহারের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে ১২৮ জিবি ভালোভাবেই কাজ করতে পারে। তবে সমস্যা দেখা দিতে পারে কয়েক বছর পর।
সময়ের সঙ্গে ছবি ও ভিডিওর লাইব্রেরি বড় হবে, অ্যাপের আকার বাড়বে এবং ফোনে ডাউনলোড করা ফাইলের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। ফলে কিছুদিন পর স্টোরেজ খালি করার প্রয়োজন হতে পারে। সফটওয়্যার আপডেটের জন্যও অস্থায়ী স্টোরেজ প্রয়োজন হয়। তাই আপনি যদি নিয়মিত পুরনো ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলেন, ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করেন এবং বেশিরভাগ কনটেন্ট অনলাইনে স্ট্রিম করেন, তাহলে ১২৮ জিবি এখনও যথেষ্ট ব্যবহারযোগ্য।
কখন ২৫৬ জিবি ফোন কেনা উচিত?
২০২৬ সালে কয়েক বছর ফোন ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে ২৫৬ জিবি সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ হতে পারে। ১২৮ জিবির তুলনায় এতে অনেক বেশি খালি জায়গা পাওয়া যায়। যারা নিয়মিত প্রচুর ছবি তোলেন, ভিডিও রেকর্ড করেন, অফলাইনে গান বা সিনেমা ডাউনলোড করেন কিংবা একাধিক বড় গেম খেলেন, তাদের জন্য ২৫৬ জিবি বেশ সুবিধাজনক।
অর্থাৎ ছবি, ভিডিও, অ্যাপ, গেম এবং অফলাইন মিডিয়া সবকিছু নিয়মিত ব্যবহার করেন এমন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ২৫৬ জিবি একটি ভালো ব্যালান্সড অপশন। ফোন কেনার সময় স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দামের পার্থক্যও দেখা উচিত। ১২৮ জিবি থেকে ২৫৬ জিবিতে যাওয়ার খরচ অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু ৫১২ জিবি কিংবা ১ টিবি স্টোরেজের জন্য অতিরিক্ত দাম অনেক বেশি হতে পারে।
কার ৫১২ জিবি বা ১ টিবি দরকার?
৫১২ জিবি এবং ১ টিবি স্টোরেজ বেশিরভাগ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় নয়। এগুলি মূলত বেশি স্টোরেজ দরকার এমন নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের জন্য। ৫১২ জিবি তাদের জন্য কার্যকর হতে পারে যারা:
- নিয়মিত ৪কে বা ৮কে ভিডিও রেকর্ড করেন
- স্মার্টফোনকে প্রধান ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করেন
- বড় বড় গেম ডাউনলোড করেন
- ফোনেই ভিডিও এডিট করেন
- প্রচুর সিনেমা, গান ও অন্যান্য মিডিয়া অফলাইনে রাখেন
- কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ফোন ব্যবহার করেন
বিশেষ করে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করলে ৫১২ জিবি দ্রুত কাজে আসে। কারণ ভিডিও ফাইল ছবির তুলনায় অনেক বেশি স্টোরেজ দখল করে। অন্যদিকে ১ টিবি মূলত সবচেয়ে বেশি স্টোরেজ ব্যবহারকারী মানুষের জন্য। আপনি যদি স্মার্টফোনকে সিরিয়াস কনটেন্ট-ক্রিয়েশন ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করেন এবং প্রচুর হাই-রেজোলিউশন ভিডিও ফোনে সংরক্ষণ করেন, তখন ১ টিবি যুক্তিযুক্ত হতে পারে। একইভাবে যারা প্রচুর কনটেন্ট ফোনে স্থানীয়ভাবে রেখে দিতে চান এবং নিয়মিত কম্পিউটার বা অন্য স্টোরেজে ফাইল স্থানান্তর করতে চান না, তাদেরও ১ টিবি কাজে আসতে পারে।
তাহলে কোন স্টোরেজ আপনার জন্য সেরা?
সহজভাবে বললে:
১২৮ জিবি: সাধারণ ব্যবহারকারী, সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং, স্ট্রিমিং ও হালকা ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট।
২৫৬ জিবি: বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে ভালো অলরাউন্ড পছন্দ, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহার করতে চাইলে।
৫১২ জিবি: প্রচুর ছবি-ভিডিও, বড় গেম, অফলাইন মিডিয়া এবং কনটেন্ট তৈরির জন্য উপযুক্ত।
১ টিবি: পেশাদার বা অত্যন্ত ভারী ব্যবহারকারীদের জন্য, যাদের বিপুল পরিমাণ হাই-রেজোলিউশন কনটেন্ট ফোনেই রাখতে হয়।
শেষ পর্যন্ত বেশি স্টোরেজ মানেই ভালো ফোন নয়। আপনার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সঠিক স্টোরেজ বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে ২৫৬ জিবি এমন একটি জায়গা, যেখানে দাম এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনের মধ্যে ভালো ভারসাম্য পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
