কাঠমান্ডু: নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভারত থেকে ত্রাণ(India Relief) নিয়ে গিয়েছিল একটি শিখ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ত্রাণ সংস্থার দুটি গাড়িকে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দিল নেপাল প্রশাসন। ভারত-নেপাল সীমান্তের সোনৌলি চেকপোস্টে আটকে দেওয়া হয় ত্রাণবাহী গাড়ি দুটিকে। নেপাল সরকারের ‘ওয়ান-ডোর সিস্টেম’ বা একক-দুয়ার নীতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সাম্প্রতিক সময়ে ভটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় নেপালের একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (India Relief)। বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় খাদ্য, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের মোহালি-ভিত্তিক একটি শিখ এনজিওর পক্ষ থেকে দুর্গতদের জন্য ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বর্ণজিৎ সিংয়ের নেতৃত্বে ওই সংস্থার প্রতিনিধিরা দুটি গাড়িতে করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের সঙ্গে ছিল মুদি সামগ্রী, ত্রিপল এবং মশারির মতো জরুরি উপকরণ।
আরও দেখুনঃ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নতুন প্রাণ অন্নেষণ! ভরসা স্পেস এক্সের ফ্যালকন
কিন্তু সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। (India Relief)নেপালের শুল্ক ও নিরাপত্তা আধিকারিকরা ত্রাণবাহী গাড়ি দুটিকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেননি। ফলে সীমান্তেই আটকে যায় পুরো ত্রাণবাহী কনভয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়, বিদেশ থেকে সরাসরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গিয়ে নিজেদের মতো করে বিতরণ করার অনুমতি বর্তমানে নেই। পরিবর্তে নেপালের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে সেগুলি দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর পিছনে রয়েছে নেপাল সরকারের চালু করা ‘ওয়ান-ডোর সিস্টেম’। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছ থেকে আসা সাহায্যকে একটি নির্দিষ্ট সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই নীতি নেওয়া হয়েছে।
সরকারের যুক্তি, ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্যকে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করলে কোথায় কী পরিমাণ সাহায্য যাচ্ছে, তার হিসাব রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম ঠেকানোও এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।
এই ব্যবস্থায় কোনও বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তি নিজের উদ্যোগে সীমান্ত পেরিয়ে ত্রাণ নিয়ে গিয়ে সরাসরি দুর্গতদের মধ্যে তা বিতরণ করতে পারবেন না। বিদেশি সাহায্য বা অনুদান নির্দিষ্ট সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। অর্থাৎ, সাহায্য করতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নেপাল সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
এই ঘটনার ক্ষেত্রে ভারতীয় এনজিওর (India Relief)প্রতিনিধিদেরও সেই নিয়মের কথাই জানানো হয়। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নেপালে প্রবেশের পরিবর্তে তাঁরা চাইলে নেপালের বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গতদের সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত দুটি গাড়িকেই ভারতে ফিরে আসতে হয়।
