Mohan Bhagwat: নিউ ইয়র্কে ‘মোহন বার্তা’! মুসলিমদের বাদ দিলে হিন্দুই থাকবেন না

কলকাতা ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে নিজের বক্তব্যে হিন্দু চিন্তার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র এবং সমাজের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস)…

mohan-bhagwat-new-york-muslims-hindu-inclusiveness-rss

কলকাতা ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে নিজের বক্তব্যে হিন্দু চিন্তার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র এবং সমাজের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেন, কোনও হিন্দু যদি মনে করেন ভারত মুসলিমশূন্য হওয়া উচিত, তাহলে তিনি আর হিন্দু থাকবেন না। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে নয়, সমাজের জনমত গড়ে তোলার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

Advertisements

ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল অননেস সেলিব্রেশন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, আরএসএস নীতিতে প্রভাব ফেলতে, সংঘাত রুখতে এবং “যুদ্ধ বন্ধ করতে” চায়। তবে রাজনৈতিক প্রভাব অর্জনকে পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখেন না তিনি।

   

ভাগবতের কথায়, “রাজনীতি এখন আত্মস্বার্থের খেলায় পরিণত হয়েছে।” তাঁর মতে, পরিবর্তন প্রথমে সমাজ থেকে শুরু হওয়া দরকার এবং এমন জনমত তৈরি করতে হবে, যা সরকার উপেক্ষা করতে পারবে না। তিনি বলেন, “জনমত থাকলে কোনও রাজনীতিক তার বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস করবেন না।”

বৈচিত্র্য মানবতার সৌন্দর্য

ধর্মীয় বৈচিত্র্য প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, বিভিন্ন ধর্ম একই সত্যের দিকে যাওয়ার আলাদা পথ। ধর্মীয় আচার এবং অনুশাসনের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু সেগুলি যেন ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর বৃহত্তর উদ্দেশ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে না ওঠে। তিনি বলেন, “বৈচিত্র্য আমাদের মানবতার অলংকার।” তাঁর মতে, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ, সম্মান এবং সুরক্ষা দিতে হবে। প্রকৃতির নিয়ম হল বৈচিত্র্য, আর তার অন্তর্নিহিত সত্য হল ঐক্য।

Advertisements

mohan-bhagwat-new-york-muslims-hindu-inclusiveness-rss

“মুসলিম না থাকলে হিন্দুই থাকবেন না”

২০১৮ সালে দিল্লিতে একটি বক্তৃতা সিরিজের সময় মুসলিমদের করা একটি প্রশ্নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আরএসএসের ‘হিন্দু রাষ্ট্র’-এর ধারণার অর্থ কি ভারতে বসবাসকারী মুসলিমদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে? ভাগবত বলেন, তিনি তখন স্পষ্টভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, “না। এটা হিন্দু নয়। কোনও হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে কোনও মুসলিম থাকা উচিত নয়, তাহলে তিনি হিন্দুই থাকবেন না।”

হিন্দু দর্শনের মধ্যে বিভিন্ন পথ একই সত্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে, এই ধারণা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে প্রত্যেক মানুষের সমান মর্যাদার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভাগবত জানান, এরপরও আরএসএস মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এই উদ্যোগের ফল পেতে সময় লাগছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

তাঁর মতে, সংলাপ এবং সেবামূলক কাজ পাশাপাশি চলা উচিত। তিনি আরএসএসের প্রায় ১.৩ লক্ষ সেবামূলক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য না করেই সেখানে সাহায্য করা হয়।

আরএসএসের ভাবমূর্তি নিয়েও বক্তব্য

আরএসএসের প্রকাশ্য ভাবমূর্তি নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর দাবি, একসময় সংগঠনটি ছিল অত্যন্ত ছোট এবং কার্যত উপেক্ষিত। কিন্তু ১০০ বছরের যাত্রায় ভারতীয় সমাজে সংগঠনটি এখন প্রভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

আরএসএস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যে সন্দেহ রয়েছে, তার জন্য তিনি “ভুল বয়ান”-কে দায়ী করেন। তাঁর মতে, মানুষ সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ দেখলে সেই সন্দেহ দূর হয়ে যাবে।

স্থানীয় স্তর থেকেই ঐক্য ও নিঃস্বার্থ সেবার উদাহরণ তৈরি করার জন্য ধর্মীয় এবং সামাজিক নেতাদের আহ্বান জানান তিনি। এরপর ধীরে ধীরে সেই সংলাপ প্রদেশ, জেলা এবং ছোট ছোট সম্প্রদায়ের স্তরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

ভাগবত স্বীকার করেন, মানুষের দীর্ঘদিনের ধারণা ও মনোভাব পরিবর্তন করা “পরিশ্রমসাধ্য, ক্লান্তিকর এবং সময়সাপেক্ষ” কাজ। তাই দ্রুত ফল না এলেও সংলাপ বন্ধ না করার আবেদন জানান তিনি।

নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে বিতর্ক

আরএসএসের শতবর্ষের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আগে থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠনটিকে ২০০-রও বেশি হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন সমর্থন করেছিল।

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, আরএসএসের ভাবনা অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষমতা শহর প্রশাসনের রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

একাধিক নাগরিক অধিকার, আন্তঃধর্মীয় এবং সামাজিক সংগঠনও অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি জানিয়েছিল। অন্যদিকে, ইউএসসিআইআরএফ ভাগবতের ভিসা বাতিল এবং আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিবেচনার আহ্বান জানায়। ভারত সরকার এই মন্তব্যকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এই বক্তব্যে ভাগবত মূলত ধর্মীয় বৈচিত্র্য, মুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সংলাপ এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে জনমত গঠনের ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Advertisements