কাঠমান্ডু ও নয়াদিল্লি: প্রবল কূটনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে পিছু হঠল নেপাল সরকার। ভয়াবহ হড়পা বানে (Flash flood) বিপর্যস্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলিকে কাজ করার অনুমতি দিল কাঠমান্ডু। বুধবারই নেপাল সরকার সদর্পে জানিয়েছিল যে, তাদের নিজস্ব বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম এবং কোনও বিদেশি উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই। কিন্তু নিখোঁজ বিদেশিদের দেশগুলির, বিশেষত ভারতের প্রবল চাপের মুখে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই সেই জেদ থেকে সরে আসতে বাধ্য হল নেপাল প্রশাসন।
কেন এই অবস্থান বদল?
নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী, হড়পা বানের জেরে এখনও পর্যন্ত ৫৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৯২৪ জন নিখোঁজ। নেপাল পর্যটন পর্ষদের তথ্য বলছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতীয়রাই, ২৮৮ জন। এরপরই রয়েছে চিন (১০০), আমেরিকা (৬৫), ইউক্রেন (৫৩), অস্ট্রেলিয়া (৩৫) এবং ব্রিটেন (৩৩)।
কাঠমান্ডুর এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-কে জানিয়েছেন, “নিখোঁজ নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রবল চাপ আসছিল। তাই সুড়ঙ্গ উদ্ধারকাজ (Tunnel rescue), ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার মতো নির্দিষ্ট কিছু কারিগরি ক্ষেত্রে আমরা সীমিত সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দিচ্ছি।” নেপালের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি ইতিমধ্যেই ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের ছাড়পত্র দিয়েছে।
সুড়ঙ্গে আটকে কয়েকশো, বাড়ছে আতঙ্ক
পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ ‘আপার ত্রিশূলী-১’ (Upper Trishuli-1) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। বিপর্যয়ের সময় ২১৬ মেগাওয়াটের ওই প্রকল্পে প্রায় ১,৩৫০ জন কর্মী কাজ করছিলেন। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, অন্তত ৫৭৬ জন কর্মীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (IPPAN) সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট উত্তম ভলোম জানিয়েছেন, “কোথায় তাঁরা আছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে কেউ যদি সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকেন এবং দ্রুত পৌঁছনো যায়, তবে তাঁদের বাঁচানো সম্ভব।” কিন্তু ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট ও টেলিযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।
ভারতের জোরদার উদ্ধার অভিযান
বিদেশিদের মধ্যে নিখোঁজ ভারতীয়ের সংখ্যা সর্বাধিক হওয়ায় প্রথম থেকেই নেপালের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল দিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ-উদ্ধারে দক্ষ বিশেষজ্ঞ দল, চিকিৎসক এবং এনডিআরএফ (NDRF)-কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ভারতের পাঠানো ১০ টন মানবিক ত্রাণের তৃতীয় বিমান কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পোর্টেবল জেনারেটর, খাবার ও জল পরিশ্রুত করার ট্যাবলেট রয়েছে। চতুর্থ দফার ত্রাণের সঙ্গেই ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল (যাঁদের মধ্যে চিকিৎসক ও সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী রয়েছেন) নেপালে পৌঁছে গিয়েছে।
অন্যদিকে, ৯ জন নাগরিক নিখোঁজ থাকায় দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের নিজস্ব বিপর্যয় মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহগুলি দ্রুত শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বিদেশি ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের ওপরই এখন ভরসা করছে নেপাল।
‘কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করুক ভারত’! বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা নিয়ে বিস্ফোরক তথাগত
মিশরের আকাশে মুখোমুখি হয়ে রাফালকে ৭ গোল চিনা জে-১৬র
