মানুষের পাশাপাশি পৃথিবীর জীবরাও চাঁদে পৌঁছাতে পারে, চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ নাসার

NASA: মহাকাশ বিজ্ঞানের জগৎ থেকে এমন একটি খবর পাওয়া গেছে যা বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানুষ যখনই মহাবিশ্বের কোনো নতুন প্রান্তে পা রাখে, তখন…

moon

NASA: মহাকাশ বিজ্ঞানের জগৎ থেকে এমন একটি খবর পাওয়া গেছে যা বিজ্ঞানীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানুষ যখনই মহাবিশ্বের কোনো নতুন প্রান্তে পা রাখে, তখন তারা এমন কিছু সঙ্গে নিয়ে যায় যা খালি চোখে দেখা যায় না। নাসার একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষের শরীরে থাকা কিছু অণুজীব—যাদের ‘মাইক্রোব’ বলা হয়—চাঁদের দক্ষিণ মেরুর অত্যন্ত শীতল ও প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম।

Advertisements

মানুষের সাথে অণুজীবও চাঁদে পৌঁছাতে পারে
নাসার নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, পৃথিবীর কিছু অণুজীব চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অত্যন্ত শীতল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অঞ্চলে অন্তত একদিন টিকে থাকতে সক্ষম। নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ চাঁদে যাওয়ার সময় তাদের সাথে অণুজীবের সেখানে পৌঁছানো পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হতে পারে। মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীবের বসবাস থাকে; এগুলো স্পেসস্যুট বা নভোচারীদের থাকার জায়গা থেকে বেরিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

   

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্রহ-বিজ্ঞানী প্রবাল সাক্সেনা এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ যখন অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে মহাকাশে পাড়ি জমায়, তখন তারা তাদের কণ্ঠস্বর ও স্মৃতির পাশাপাশি নিজেদের অণুজীবগুলোকেও সঙ্গে নিয়ে যায়।

মঙ্গল গ্রহে পরিচালিত হতে যাওয়া ভবিষ্যৎ অভিযানগুলোর ক্ষেত্রে একটি বড় সংকট দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞানীদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো—পৃথিবী থেকে বাহিত এই অণুজীবগুলো চাঁদের নিজস্ব রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা কঠিন করে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে নভোচারীরা যখন মঙ্গল গ্রহে যাবেন, তখন এই একই সমস্যা আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

Advertisements

নাসার বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু নিডহ্যাম বলেছেন, “আমরা সেখানে পৌঁছানোর আগে কী ছিল, তা আমাদের বোঝা প্রয়োজন। পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধানে যখন আমরা মঙ্গলে যাব, তখন আমরা নিশ্চিত করতে চাইব যে সেখানে যা পাওয়া যাচ্ছে, তা যেন আমাদের নিজেদের সাথে নিয়ে যাওয়া কোনো কিছু না হয়।”

এই অণুজীবগুলোর ওপর পরিচালিত গবেষণা
এই গবেষণায় মানুষ এবং মহাকাশ অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অণুজীব নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল *Aspergillus niger*, *Bacillus subtilis*, *Staphylococcus aureus*, *Deinococcus radiodurans* এবং *Fusarium*-এর কয়েকটি প্রজাতি।

Advertisements