কলকাতা: টিএভিএস অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ ৪ভি-এর (Apache RTR 160 4V) ইউএসডি ফর্ক এবং টিএফটি ডিসপ্লে-সহ টপ ভ্যারিয়েন্টটি এই ১৬০ সিসি মোটরসাইকেলের সবচেয়ে বেশি ফিচারযুক্ত সংস্করণ। দিল্লিতে এর এক্স-শোরুম দাম ১,৩৯,৪৪০ টাকা। এটি সিঙ্গল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্টের ১.২৬ লক্ষ টাকা এবং ইউএসডি ফর্ক-সহ ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্টের ১.৩২ লক্ষ টাকার উপরে অবস্থান করছে।
অর্থাৎ মিড-স্পেক মডেলের তুলনায় প্রায় ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা বেশি খরচ করলে এই টপ ভ্যারিয়েন্টে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত ফিচার পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, বাড়তি টাকা খরচ করে এই সংস্করণ নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?
ডিজাইনের দিক থেকে টপ ভ্যারিয়েন্টে অন্য সংস্করণের তুলনায় বড় কোনও পরিবর্তন নেই। নতুন প্রজন্মের অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ ৪ভি-র মতোই এতে প্রজেক্টর হেডলাইট রয়েছে। এই হেডলাইট ব্যবহারিক দিক থেকে ভালো হলেও এর নকশায় অনেকেরই বাজাজ পালসার এন১৬০-এর সঙ্গে কিছুটা মিল মনে হতে পারে।
এই ভ্যারিয়েন্টের অন্যতম আলাদা বৈশিষ্ট্য হল মেরিন ব্লু রঙ। এছাড়াও রেসিং রেড এবং ম্যাট ব্ল্যাক রঙের বিকল্প রয়েছে। মোটরসাইকেলটিতে গোল্ডেন রঙের ইনভার্টেড ফর্ক, রঙিন অ্যালয় হুইল এবং রেসিং-অনুপ্রাণিত গ্রাফিক্সের মতো প্রিমিয়াম ডিজাইন উপাদানও রয়েছে।
তবে এই ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে বড় আপগ্রেড ডিজাইনে নয়, প্রযুক্তিতে। টিএফটি ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ৫ ইঞ্চির কানেক্টেড টিএফটি ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। এই ডিসপ্লে শুধু বাইকের সাধারণ তথ্য দেখায় না, বরং রাইডারকে রাইডিং সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য দেয়।
এর মধ্যে রয়েছে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, রাইড অ্যানালিটিক্স এবং টেলিমেট্রি। রাইড অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে ট্রিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দেখা যায়। অন্যদিকে টেলিমেট্রির মধ্যে রয়েছে অ্যাক্সিলারেশন টাইম, সর্বোচ্চ গতির রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য।
নেভিগেশন ব্যবস্থাটিও বেশ ব্যবহারিক। রাস্তার দিকনির্দেশ দেখানোর পাশাপাশি জ্বালানি কমে গেলে কাছাকাছি পেট্রল পাম্পের দিকেও রাইডারকে নিয়ে যেতে পারে সিস্টেমটি।
তবে এই টিএফটি ডিসপ্লেতে গুগল ম্যাপস মিররিং সুবিধা না থাকাটা কিছুটা চোখে পড়ে। বিশেষ করে বাজাজ পালসার এন১৬০ এসএস-এ যখন এই সুবিধা রয়েছে, তখন অ্যাপাচির টপ ভ্যারিয়েন্টেও এমন ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো হত।
অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ ৪ভি-এর নিচের ভ্যারিয়েন্টগুলিতেও ব্লুটুথ কানেক্টিভিটির মতো সুবিধা রয়েছে। তবে সেখানে তথ্য এলসিডি কনসোলে দেখানো হয়। টপ ভ্যারিয়েন্টের ৫ ইঞ্চির টিএফটি ডিসপ্লে এই জায়গাতেই বড় পার্থক্য তৈরি করে।
রাইডিংয়ের জন্য তিনটি মোড রয়েছে। এগুলি হল স্পোর্ট, আরবান এবং রেন। ট্রাফিকের মধ্যে ধীরে মোটরসাইকেল চালানোর সময় সুবিধার জন্য লো-আরপিএম অ্যাসিস্টও রয়েছে। এই ফিচারগুলি পুরো রেঞ্জেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে পাওয়া যায়।
তবে টপ ভ্যারিয়েন্টে এই রাইডিং মোডগুলির সঙ্গে আরও সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক প্যাকেজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ৩-ধাপে অ্যাডজাস্ট করা যায় এমন লিভার। রাইডারের হাতের আকার অনুযায়ী লিভারের অবস্থান পরিবর্তন করা যায় বলে এই সুবিধা অনেকের কাজে লাগতে পারে।
নিরাপত্তার দিক থেকে টিএফটি ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ফিচার হল ট্র্যাকশন কন্ট্রোল। ১৬০ সিসির মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এটিকে কারও কাছে অতিরিক্ত ফিচার মনে হতে পারে। তবে নতুন রাইডারদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে ভেজা রাস্তা বা খুব পিচ্ছিল পরিস্থিতিতে পিছনের চাকা যাতে সহজে গ্রিপ হারিয়ে না ফেলে, তা সামলাতে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সাহায্য করতে পারে।
এই ভ্যারিয়েন্টে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএসও রয়েছে। ফলে সামনে এবং পিছনের দুই চাকাতেই ব্রেক করার সময় এবিএসের সুবিধা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে স্লিপ অ্যান্ড অ্যাসিস্ট ক্লাচ অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ ৪ভি-এর সব ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে। এর ফলে ক্লাচ লিভারে চাপ দেওয়ার পরিমাণ কমে যায়। পাশাপাশি দ্রুত ডাউনশিফট করার সময় পিছনের চাকা লক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমাতে সাহায্য করে এই প্রযুক্তি।
তবে টপ ভ্যারিয়েন্ট কেনার ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এই সংস্করণ নিলেই ইঞ্জিন থেকে বাড়তি শক্তি পাওয়া যাবে না। তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই একই ইঞ্জিন ব্যবহার করেছে টিএভিএস।
অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ ৪ভি-তে রয়েছে ১৫৯.৭ সিসির এয়ার-অয়েল-কুলড, ৪-ভালভ ইঞ্জিন। অর্থাৎ টপ ভ্যারিয়েন্টের মূল সুবিধা পারফরম্যান্সের জায়গায় নয়, বরং প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং অতিরিক্ত সরঞ্জামে।
এই ইঞ্জিনটি যথেষ্ট প্রাণবন্ত এবং মোটরসাইকেলটির রাইডিং চরিত্রও বেশ মজার। তাই কেউ যদি শুধুমাত্র বেশি শক্তি বা দ্রুত গতির জন্য টপ ভ্যারিয়েন্ট কিনতে চান, তাহলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করার বিশেষ কারণ নেই।
কিন্তু যাঁরা ৫ ইঞ্চির কানেক্টেড টিএফটি, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, রাইড অ্যানালিটিক্স, টেলিমেট্রি, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং অ্যাডজাস্টেবল লিভারের মতো সুবিধা চান, তাঁদের জন্য টপ ভ্যারিয়েন্টটি বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।
সব দিক বিচার করলে, প্রায় ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা অতিরিক্ত খরচের বিনিময়ে টিএফটি ভ্যারিয়েন্টে মূলত প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তার অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। ইঞ্জিন বা মূল রাইডিং পারফরম্যান্সে কোনও পরিবর্তন নেই। ফলে বাজেট যদি খুব বেশি টানটান না হয় এবং আধুনিক ফিচারকে গুরুত্ব দেন, তাহলে টিএভিএস অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ ৪ভি-এর এই টপ ভ্যারিয়েন্টটি বাড়তি খরচের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার হতে পারে।
