কলকাতা: ভারতের বাজারে ৪২ এফজে মোটরসাইকেলের জন্য ছয়টি নতুন রঙের বিকল্প আনল জাওয়া (Jawa 42 FJ)। ন তুন রঙগুলির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির দামও কিছুটা বেড়েছে। এখন জাওয়া ৪২ এফজের দাম শুরু হচ্ছে ২,০১,৯৪২ টাকা থেকে, এক্স-শোরুম, দিল্লি। নতুন রঙের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ২,১৫,৯৪২ টাকা পর্যন্ত।
নতুন রঙের তালিকায় রয়েছে অরোরা গ্রিন, অল স্টারস রেড, ডিপ ম্যাট ব্ল্যাক, ডিপ ম্যাট ব্ল্যাক রেড, অল স্টারস নেবুলা ব্লু এবং অল স্টারস ক্রোম। প্রতিটি রঙে মোটরসাইকেলটির চেহারায় আলাদা ধরনের ডিজাইন দেওয়া হয়েছে। তবে রঙের পরিবর্তন ছাড়া বাইকের ইঞ্জিন, যান্ত্রিক ব্যবস্থা বা পারফরম্যান্সে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
নতুন রঙের বেস সংস্করণ অরোরা গ্রিনের দাম ২,০১,৯৪২ টাকা। আগের অরোরা গ্রিন ম্যাট রঙের দাম ছিল ১,৯৪,৯৫০ টাকা। অর্থাৎ নতুন বেস রঙের দাম আগের তুলনায় ৬,৯৯২ টাকা বেশি।
আরও পড়ুন: ১৯.৪৯ লক্ষ টাকায় MG Hector Tomahawk EV, বাড়িতেও বিদ্যুৎ দেবে এই SUV
ডিপ ম্যাট ব্ল্যাক এবং ডিপ ম্যাট ব্ল্যাক রেড রঙের দাম রাখা হয়েছে ২,০৭,৯৪২ টাকা। আগের ডিপ ব্ল্যাক ম্যাট ব্ল্যাক ক্ল্যাড রঙের দাম ছিল ২,০৪,৯৫০ টাকা। অন্যদিকে শীর্ষ রঙের বিকল্প অল স্টারস নেবুলা ব্লু এবং অল স্টারস ক্রোমের দাম ২,১৫,৯৪২ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। আগের ডিপ ব্ল্যাক ম্যাট রেড ক্ল্যাড এবং অল স্টারস রেড রঙের তুলনায় নতুন শীর্ষ রঙের দাম ১০,৯৯২ টাকা বেশি।
নতুন রঙগুলির মধ্যে অল স্টারস রেড সবচেয়ে নজরকাড়া বিকল্পগুলির একটি। এতে লাল এবং রুপোলি রঙের দ্বৈত-টোন নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি ট্যাঙ্ক, হেডলাইট কভার এবং সাইড প্যানেলে উজ্জ্বল লাল রঙ রয়েছে। অন্যদিকে সামনের ও পিছনের মাডগার্ড এবং ট্যাঙ্কের কিছু অংশে ম্যাট সিলভার ফিনিশ দেওয়া হয়েছে। বাইকের বাকি অংশে কালো রঙ ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Mahindra BE 6 Sportech বুকিং ও ডেলিভারি, কীভাবে কিনবেন নতুন ইলেকট্রিক SUV
লাল এবং রুপোলি রঙের এই সংমিশ্রণ ৪২ এফজেকে কিছুটা স্পোর্টি চেহারা দিয়েছে। একই সঙ্গে বাইকের রেট্রো রোডস্টার চরিত্রও বজায় রয়েছে। ফলে যাঁরা পুরনো দিনের নকশার সঙ্গে একটু স্পোর্টি লুক চান, তাঁদের কাছে এই রঙটি আকর্ষণীয় হতে পারে। অল স্টারস নেবুলা ব্লু রঙেও দ্বৈত-টোন নকশা রয়েছে। এখানে জ্বালানি ট্যাঙ্ক, হেডলাইট কভার এবং সাইড প্যানেলে গাঢ় নীল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। ট্যাঙ্কের পাশে রুপোলি ডিটেলিং রয়েছে। বাইকের ইঞ্জিন এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশ কালো রাখা হয়েছে। গাঢ় নীল এবং কালো রঙের সংমিশ্রণে এই সংস্করণটির চেহারা তুলনামূলকভাবে পরিণত এবং সংযত। খুব বেশি নজরকাড়া রঙ পছন্দ করেন না, কিন্তু বাইকে প্রিমিয়াম চেহারা চান, তাঁদের জন্য এটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে।
অল স্টারস ক্রোমকে নতুন রঙের তালিকার সবচেয়ে ক্লাসি বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। এতে জ্বালানি ট্যাঙ্কে ক্রোম ফিনিশ রয়েছে এবং ট্যাঙ্কের পাশে জাওয়ার ব্র্যান্ডিং দেখা যায়। বাইকের বাকি অংশ কালো রঙে রাখা হয়েছে। ক্রোম ফিনিশ এবং কালো রঙের এই সংমিশ্রণ ৪২ এফজের পুরনো দিনের রোডস্টার চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করে। যারা পরিষ্কার এবং ক্লাসিক ধরনের ডিজাইন পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এই রঙটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে।
অরোরা গ্রিনও আলাদা ধরনের চরিত্র বহন করছে। এতে অলিভ গ্রিন বা গাঢ় সবুজ বেস রঙের সঙ্গে ট্যাঙ্কের পাশে রুপোলি ডিটেলিং রয়েছে। ইঞ্জিন, এক্সজস্ট এবং ফ্রেম কালো রঙে থাকায় সবুজের সঙ্গে একটি রাগড চেহারা তৈরি হয়েছে। এই রঙের ডিজাইনে কিছুটা সামরিক ধরনের ভাব রয়েছে। ফলে যারা শক্তপোক্ত এবং রাগড লুকের মোটরসাইকেল পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে অরোরা গ্রিন আকর্ষণীয় হতে পারে।
ডিপ ম্যাট ব্ল্যাক রেড রঙটি তুলনামূলকভাবে বেশি স্পোর্টি। বাইকের বেশিরভাগ অংশে ম্যাট ব্ল্যাক রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি ট্যাঙ্কে উজ্জ্বল লাল অংশ রয়েছে। সাইড প্যানেলে বড় ‘৪২’ গ্রাফিক্সও এই সংস্করণের স্পোর্টি চরিত্র আরও বাড়িয়েছে।
ইঞ্জিন এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশ কালো রাখায় বাইকটির চেহারা আরও আগ্রাসী হয়েছে। যারা রেট্রো রোডস্টারের পাশাপাশি স্পোর্টি লুকও চান, তাঁদের জন্য এই রঙটি নজর কাড়তে পারে। অন্যদিকে ডিপ ম্যাট ব্ল্যাক রঙটি সবচেয়ে সংযত বিকল্পগুলির একটি। জ্বালানি ট্যাঙ্ক, সাইড প্যানেল, ইঞ্জিন, এক্সজস্ট এবং অন্যান্য যান্ত্রিক অংশে কালো রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে পুরো বাইকটিতে একটি স্টেলথ ধরনের চেহারা তৈরি হয়েছে।
যাঁরা বাইকে খুব বেশি রঙ বা আলাদা ধরনের ডিজাইন চান না এবং তুলনামূলকভাবে সাদামাটা চেহারা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ডিপ ম্যাট ব্ল্যাক উপযুক্ত হতে পারে।
নতুন রঙ যুক্ত হলেও জাওয়া ৪২ এফজের যান্ত্রিক অংশে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থাৎ নতুন রঙের জন্য ইঞ্জিন বা পারফরম্যান্সে কোনও আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। মূল পরিবর্তন হয়েছে ডিজাইন এবং রঙের বিকল্পে।
নতুন রঙের মাধ্যমে জাওয়া ৪২ এফজেকে আরও ব্যক্তিগতভাবে বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। রেট্রো স্টাইলের সঙ্গে স্পোর্টি, প্রিমিয়াম, রাগড কিংবা সম্পূর্ণ কালো, বিভিন্ন ধরনের চেহারা পছন্দ করা ক্রেতাদের জন্য এখন আলাদা বিকল্প রয়েছে। তবে নতুন রঙের সঙ্গে দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও ক্রেতাদের মাথায় রাখতে হবে।
