ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে বিশ্বব্যাপী জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (Jaish-e-Mohammed )সদর দফতর রেকর্ড সময়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে । এই ভবনটি ২০২৫ সালে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের সময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতীয় বাহিনী ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
এখন স্যাটেলাইট ছবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, (Jaish-e-Mohammed)সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার নতুন করে গড়ে উঠেছে মারকাজ সুবহান আল্লাহ নামের এই কেন্দ্র। কূটনীতিকদের মতে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি আরও শক্তিশালী করে তুলছে নিজেদের। তা না হলে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এই সদর দফতর এত তাড়াতাড়ি কি করে তৈরী হতে পারে। এছাড়াও তারা বলছেন পাকিস্তান সরকার এই অর্থায়ন করছে এবং সন্ত্রাসবাদকে মদত দিচ্ছে।
আরও দেখুনঃ নিয়মে বড় রদবদল! আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রায় আর দেখতে হবে না ফিজিক্যাল বোর্ডিং পাস
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হন। এর জবাবে ৭ মে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈয়বাসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি শিবির ও সদর দফতরে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। বাহাওয়ালপুরের জইশ সদর দফতর ছিল প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি।
ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভবনের গম্বুজ ও কেন্দ্রীয় হলসহ বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।(Jaish-e-Mohammed )এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত গম্বুজগুলো মেরামত করা হয়েছে, ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে এবং নতুন নির্মাণ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় হল পুরোপুরি পুনর্নির্মিত, দেয়ালে প্লাস্টার ও রং করা হয়েছে এবং স্থাপনাটি আবার সচল অবস্থায় ফিরে এসেছে।
আরও দেখুনঃ স্মৃতিতে ড্রোন আতঙ্ক! আমিরাতের তেল ট্যাঙ্কারে বসছে ধাতব খাঁচা ‘কোপকেজ’
ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্রগুলো দাবি করছে, (Jaish-e-Mohammed )এই পুনর্নির্মাণে পাকিস্তান সরকারের আর্থিক সহায়তা এসেছে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান সরকার জইশ-ই-মোহাম্মদকে কিস্তিতে প্রায় ২৫ কোটি রুপি দিয়েছে, যার একটি বড় অংশ কেন্দ্রীয় হল মেরামতে খরচ হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এর সম্পর্কের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে।
ভারত বারবার বলে আসছে, এই সংগঠনগুলো পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট।এই দ্রুত পুনর্নির্মাণ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জইশ-ই-মহম্মদ রাষ্ট্র সংঘসহ বিভিন্ন দেশের নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের সদর দফতর আবার সক্রিয় হওয়া মানে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ইঙ্গিত। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি প্রমাণ করে যে পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ বা অনিচ্ছুক।
