স্মৃতিতে ড্রোন আতঙ্ক! আমিরাতের তেল ট্যাঙ্কারে বসছে ধাতব খাঁচা ‘কোপকেজ’

দুবাই: সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন তেল সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর (cope cages)চারপাশে বিশাল ধাতব খাঁচা বা ‘কোপ কেজ’ বসিয়ে দিচ্ছে। এই সস্তা কিন্তু কার্যকরী পদ্ধতিপশ্চিম এশিয়া জুড়ে…

uae-oil-tank-cope-cages

দুবাই: সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন তেল সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর (cope cages)চারপাশে বিশাল ধাতব খাঁচা বা ‘কোপ কেজ’ বসিয়ে দিচ্ছে। এই সস্তা কিন্তু কার্যকরী পদ্ধতিপশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আমিরাতের জ্বালানি পরিকাঠামো রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Advertisements

আবুধাবি ও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি জ্বালানি ট্যাংকগুলোর (cope cages)উপর ও চারপাশে ভারী ইস্পাতের জাল ও ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।এই ‘কোপ কেজ’ মূলত রাশিয়ার অনুকরণে তৈরি। ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা থেকে তেল ডিপো রক্ষায় রাশিয়া বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের ধাতব খাঁচা ও জাল ব্যবহার করে আসছে। আমিরাত সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ পাকিস্তানে কেন অত্যাচারিত হতে হবে বালুচদের! ফের সরব মানবাধিকার কর্মী সাবিহা বালোচ

ধীরগতির ও সস্তা কামিকাজে ড্রোন, (cope cages)যেমন ইরানের শাহেদ-১৩৬, যখন আঘাত হানতে আসে, তখন এই খাঁচা সেগুলোকে আটকে ফেলে বা ট্যাংকে পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণ ঘটাতে বাধ্য করে। ফলে সরাসরি ধাক্কা লাগে না এবং ক্ষতির পরিমাণ কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাঁচা ও ট্যাংকের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় বিস্ফোরকের প্রভাবও অনেক কমে যায়।তবে এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট।

Advertisements

ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে এটি প্রায় অকার্যকর। (cope cages)ব্যালিস্টিক বা ক্রুজ মিসাইল অনেক বেশি গতি, শক্তি ও ভেদনক্ষমতা নিয়ে আসে। সাধারণ ধাতব খাঁচা সেগুলোকে আটকাতে পারে না। সাম্প্রতিক সংঘাতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোনের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ড্রোন প্রতিহত করা গেলেও কিছু আক্রমণ সফল হয়েছে এবং ফুজাইরা বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে।

আরও দেখুনঃ মধ্যরাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে ইমরান

দুবাই বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি ট্যাংকে সরাসরি ড্রোন আঘাত লাগার ঘটনাও ঘটেছে (cope cages)।এই সস্তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। জ্বালানি রফতানিকারক দেশগুলো যদি একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে তারাও এ ধরনের প্যাসিভ প্রতিরক্ষা গ্রহণ করতে পারে। খরচ কম এবং নির্মাণ তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এটি শুধুমাত্র সাময়িক ও সীমিত সমাধান।দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ড্রোনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা গড়ে তোলা। অর্থাৎ, শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং ড্রোন শনাক্ত করা, আটকানো এবং প্রয়োজনে উৎসস্থলে আঘাত হানার মতো সক্রিয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

Advertisements