কলকাতা: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে (Durand Cup Final) আবারও মুখোমুখি কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। আজ, রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৫টায়।
এই ফাইনাল আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে কারণ টুর্নামেন্টের শুরুতেই দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। ২৫ জুলাই ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই কলকাতা ডার্বিতে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল মোহনবাগান।
তবে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে দুই দলের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচের পর ইস্টবেঙ্গল ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উন্নতি করেছে এবং ফাইনালে পৌঁছেছে। ফলে এবার প্রথম ম্যাচের ফল দিয়ে ফাইনালের চিত্র বিচার করা কঠিন।
Also Read | দিঘা-বকখালি থেকে কালিম্পঙ! গত এক বছরে বাংলার পর্যটনে বেসরকারি বিনিয়োগ ৫,৭১০ কোটি
২৫ জুলাইয়ের ডার্বিতে কী হয়েছিল?
ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল দুই কলকাতা প্রধান। দুই দলই টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন ছিল। সেই ম্যাচে উভয় দলই ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিল।
প্রথমার্ধে মোহনবাগান তুলনামূলকভাবে ভালো ফুটবল খেলেছিল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে গোল করার সুযোগও পেয়েছিলেন সাহাল আবদুল সামাদ। তবে তাঁর শট আটকে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক গিল।
প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ সতর্ক ছিল। মাঝমাঠে জায়গা কম রেখে খেলছিল তারা। ডার্বির গুরুত্বের কারণে কোনও দলই শুরুতেই গোল হজম করার ঝুঁকি নিতে চাইছিল না। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
Also Read | শিলিগুড়ি করিডোরের হুমকি ঠেকাতে ত্রিভুজ গ্রিডের পরিকল্পনা শাহের
সাহালের গোলে ম্যাচ জেতে মোহনবাগান
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে। ৫২ মিনিটে কিয়ান নাসিরির বাড়ানো বল থেকে গোল করেন সাহাল আবদুল সামাদ। তাঁর সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এরপর ইস্টবেঙ্গল সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও আর গোল করতে পারেনি। ফলে ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে অভিযান শুরু করে মোহনবাগান। সেই ম্যাচে মোহনবাগানের জয়টি অবশ্য খুব সহজে আসেনি। দুই দলের রক্ষণাত্মক সংগঠন এবং সতর্ক ফুটবলের কারণে ম্যাচটি ছিল বেশ কৌশলনির্ভর।
তারপর বদলে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল
প্রথম ডার্বিতে হারের পর ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। এরপর গ্রুপ পর্বে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৮-০ গোলে এবং সাউথ ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে তারা নকআউটে ওঠে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইন্ডিয়ান আর্মি এফটির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় পায় ইস্টবেঙ্গল।
সেমিফাইনালে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময়ে গোল করতে পারেনি কোনও দল। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায় ইস্টবেঙ্গল। অর্থাৎ, প্রথম ডার্বিতে হারের পর ইস্টবেঙ্গল টুর্নামেন্টে ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে।
মোহনবাগানের পথও ছিল কঠিন
অন্যদিকে মোহনবাগানের নকআউট পর্বের পথও সহজ ছিল না। কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৯-৮ ব্যবধানে জেতে সবুজ-মেরুন শিবির। এরপর সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হয়। পেনাল্টি শুটআউটে মোহনবাগান ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায়। সেমিফাইনালে মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন এবং দুটি পেনাল্টি সেভ করে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন।
এক মাসে দুই দলের চেহারাই বদলেছে
২৫ জুলাইয়ের ডার্বির সময় দুই দলই মরশুমের একেবারে শুরুতে ছিল। সেই কারণে ম্যাচে ছন্দের অভাব স্পষ্ট ছিল। কিন্তু এরপর ইস্টবেঙ্গল ছয়টি এবং মোহনবাগান পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে দুই দলের খেলায় পরিবর্তন এসেছে।
বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণভাগে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে। অন্যদিকে মোহনবাগান নকআউট পর্বে পরপর দুই ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউটে জিতে চাপের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা দেখিয়েছে। ফলে ফাইনালে আগের ডার্বির ফল খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে হচ্ছে।
ফাইনালে কারা এগিয়ে?
প্রথম ডার্বিতে জয় পাওয়ার কারণে মনস্তাত্ত্বিকভাবে মোহনবাগান কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গল প্রথম ম্যাচে ০-১ গোলে হারের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেমিফাইনালে পেনাল্টিতে জয়ও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অন্যদিকে মোহনবাগানও নকআউট পর্বে কঠিন পরিস্থিতি সামলে ফাইনালে এসেছে। ফাইনাল তাই প্রথম ডার্বির পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। দুই দলই এখন অনেক বেশি প্রস্তুত এবং অভিজ্ঞ।
২৩ আগস্ট ফের কলকাতা ডার্বি
ডুরান্ড কাপের ১৩৫তম আসরের ফাইনালে এবার ট্রফির জন্য মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। ম্যাচটি ২৩ আগস্ট বিকেল ৫টায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় এক মাস আগে যে ম্যাচে মোহনবাগান ১-০ গোলে জিতেছিল, এবার সেই ম্যাচের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা পরিস্থিতিতে দুই দল মাঠে নামবে।
ইস্টবেঙ্গলের সামনে থাকবে প্রথম ডার্বির হারের জবাব দিয়ে ডুরান্ড কাপের ট্রফি জেতার সুযোগ। মোহনবাগানের লক্ষ্য থাকবে শুরুতেই পাওয়া জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মরশুমের প্রথম ট্রফি ঘরে তোলা।
ফলে রবিবারের ডার্বি শুধু কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই নয়, প্রায় এক মাসের ব্যবধানে দুই দলের পরিবর্তনেরও পরীক্ষা। এবার সাহাল আবদুল সামাদের সেই একটি গোলের গল্প নয়, বরং পুরো ম্যাচের ৯০ মিনিটই ঠিক করবে কার হাতে উঠবে ডুরান্ড কাপের ট্রফি।
