মধ্যরাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে ইমরান

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। তবে চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত…

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। তবে চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তাঁকে ফের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর হাসপাতালে ভর্তির কোনও প্রয়োজন নেই।

Advertisements

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ৭৩ বছর বয়সী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতাকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ। তবে পরীক্ষা শেষে তাঁকে ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে নিজের সেলে রাখা হয় বলে কারা সূত্রে খবর।

   

ছয় সদস্যের মেডিক্যাল টিমের পরীক্ষা

শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ছয় জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। রক্তচাপের ওঠানামা, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড় এবং মাথাব্যথার পাশাপাশি তাঁর ডান চোখের একটি পুরোনো সমস্যা (সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন) নিয়ে অভিযোগ ছিল। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই এবং তাঁকে হেফাজতে রাখাই নিরাপদ।

হাসপাতালে কড়া নিরাপত্তা

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতালে যাতায়াতের সময় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হাসপাতাল চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ দিয়ে। খোদ ইসলামাবাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল-সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখেন। ইমরান খানের হাই-প্রোফাইল স্ট্যাটাস এবং রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার কথা মাথায় রেখে মধ্যরাতেই অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সঙ্গে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

Advertisements

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে তাঁর দলের পক্ষ থেকে বারবার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানানো হচ্ছিল। এর প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ অনুযায়ী চিকিৎসকদের দল তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এবং তাঁকে ফের জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

হাজার দিনের বেশি হেফাজতে

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ইমরান খান একাধিক মামলায় এক হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বন্দিদশা পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিটিআই বারবার তাঁর মুক্তির দাবি করে আসছে এবং অভিযোগ তুলছে যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জল্পনা চলছিল যে, পর্দার আড়ালে হয়তো কোনও আপস-মীমাংসা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত ঘটনার মাঝেই ফের জেলেই ফিরতে হল প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীকে।

‘জিহাদের লক্ষ্যে ১০০০০ জঙ্গিকে কাশ্মীরে পাঠিয়েছে হাফিজ!’ লস্করের ব্রেন ওয়াশ মৌলানার অকপট স্বীকারোক্তি

ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে ঘুচুক জট! কর ও নীতিতে স্থিরতার বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

Advertisements