গুরুগাঁও: ভারতে নিজেদের গাড়ির পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে স্কোডা (Skoda)। এর অংশ হিসেবে ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনে সিএনজি প্রযুক্তি আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। এই ইঞ্জিন বর্তমানে কাইলাক, কুশাক ও স্লাভিয়া মডেলে ব্যবহার করা হয়।
স্কোডা ইন্ডিয়ার ব্র্যান্ড ডিরেক্টর আশিস গুপ্ত জানিয়েছেন, তিনটি গাড়িতেই একই ১.০ লিটারের ইঞ্জিন এবং এমকিউবি এ০-আইএন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে তিনটি মডেলই সম্ভাব্য সিএনজি প্রযুক্তির জন্য বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, “১.০ লিটারের ইঞ্জিন এবং এমকিউবি এ০-আইএন প্ল্যাটফর্ম কাইলাক, কুশাক ও স্লাভিয়ার ক্ষেত্রে একই। তাই তিনটি গাড়িই সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে।”
সিএনজি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে স্কোডার
ভারতের বাজারে বিকল্প জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় সিএনজি নিয়ে স্কোডা আরও জোরালোভাবে ভাবছে। আশিস গুপ্ত জানিয়েছেন, সংস্থাটি তাদের সিএনজি কৌশল নিয়ে দ্রুত কাজ করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অংশে বিকল্প জ্বালানি, বিশেষ করে সিএনজির দিকে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে স্কোডার সিএনজি পরিকল্পনাও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে পেট্রোল গাড়ির বাজারে বিভিন্ন কারণের প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং ইথানল মিশ্রণ নিয়ে নীতিগত অনিশ্চয়তা পেট্রোলচালিত গাড়ি সম্পর্কে কিছুটা ক্রেতা-সেন্টিমেন্টে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এই পরিস্থিতিতে বাজারে প্রাসঙ্গিক থাকতে জ্বালানির বিকল্প তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গুপ্ত।
কাইলাককে দেওয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার
স্কোডার সম্ভাব্য সিএনজি পরিকল্পনায় আপাতত কাইলাক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, কমপ্যাক্ট এসইউভি বিভাগে সিএনজি সংস্করণ আনার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে সিএনজি প্রযুক্তি যুক্ত করলে গাড়ির কর্মক্ষমতা কতটা বজায় রাখা যাবে, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ।
পারফরম্যান্সে কতটা কমতি হতে পারে?
স্কোডা মনে করছে, পেট্রোলের তুলনায় সিএনজি সংস্করণে কর্মক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে। আশিস গুপ্তের মতে, প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ক্রেতারা সিএনজি গাড়ির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে এই পার্থক্য মেনে নিতে পারেন বলে তাঁর ধারণা।
তবে স্কোডার লক্ষ্য হবে এমন একটি সিএনজি মডেল তৈরি করা, যাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্কোডার গাড়ির পরিচিত পারফরম্যান্স চরিত্রও যতটা সম্ভব বজায় থাকে। গুপ্ত জানিয়েছেন, উন্নয়ন দলের জন্য এটিই অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, সঠিক পণ্য, সঠিক প্রযুক্তি, উপযুক্ত মূল্য এবং সঠিক সময়ে বাজারে আনা গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি দাম হলেও সিএনজি গাড়ির ক্রেতা থাকতে পারেন
স্কোডার ব্র্যান্ড ডিরেক্টর মনে করেন, সিএনজি গাড়ির বাজার শুধুমাত্র কম দামের গাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তুলনামূলকভাবে বেশি দামের গাড়িতেও সিএনজির চাহিদা তৈরি হতে পারে। আগে মূলত কম খরচে গাড়ি চালানোর প্রয়োজন থেকেই ক্রেতারা সিএনজি গাড়ি বেছে নিতেন। কিন্তু এখন জ্বালানি খরচ কমানোর সুবিধার কারণে প্রিমিয়াম গাড়ির ক্রেতারাও সিএনজি বিবেচনা করতে শুরু করেছেন বলে মনে করছে স্কোডা।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে কে কোথায়?
কাইলাকের কমপ্যাক্ট এসইউভি বিভাগে মারুতি সুজুকি ব্রেজা, টাটা নেক্সন, হুন্ডাই ভেন্যু, রেনল্ট কাইগার এবং নিসান ম্যাগনাইট-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে, যাদের মধ্যে একাধিক মডেলে সিএনজি বিকল্প পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বিভাগে টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে সিএনজি প্রযুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে নেক্সন বর্তমানে ব্যতিক্রমী অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে কুশাকের মাঝারি আকারের এসইউভি বিভাগে মারুতি সুজুকি ভিক্টোরিস, গ্র্যান্ড ভিটারা এবং টয়োটা হাইরাইডার-এ সিএনজি বিকল্প রয়েছে। স্লাভিয়ার মাঝারি আকারের সেডান বিভাগে বর্তমানে কোনও গাড়িতেই সিএনজি সংস্করণ নেই। ফলে স্লাভিয়ায় ১.০ লিটারের টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে সিএনজি প্রযুক্তি এলে স্কোডা এই বিভাগে একটি সম্পূর্ণ নতুন বিকল্প তৈরি করতে পারবে।
