বাংলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে ৪ নয়া গ্রীডে ৪৭৩.০৬ কোটি অনুমোদন

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে রাজ্য ( power projects)। পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা ডব্লিউবিইআরসি চারটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সমিশন প্রকল্পে মোট…

wb-power-projects

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে রাজ্য ( power projects)। পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা ডব্লিউবিইআরসি চারটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সমিশন প্রকল্পে মোট ৪৭৩.০৬ কোটি টাকার মূলধনী ব্যয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পগুলো পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ইলেকট্রিসিটি ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড বা ডব্লিউবিএসইটিসিএল বাস্তবায়ন করবে।

Advertisements

এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে।সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি রায়গঞ্জে। সেখানে ১৬৯.৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান ১৩২/৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনকে আপগ্রেড করে ২২০/১৩২/৩৩/১১ কেভি করা হবে।

   

আরও দেখুনঃ নাগাল্যান্ডে প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছনোর পথে বড় পদক্ষেপ! নর্থ-ইস্ট গ্যাস গ্রিডে নতুন অধ্যায়

এর সঙ্গে ডালখোলা-গাজোল ২২০ কেভি লাইনের সঙ্গে এলআইএলও সংযোগ স্থাপন করা হবে। রায়গঞ্জে ২০২৪ সালের জুনে পিক ডিমান্ড প্রায় ১২৮ এমভিএ রেকর্ড করা হয়েছিল, অথচ ট্রান্সফরমার ক্ষমতা ছিল মাত্র ৩×৫০ এমভিএ।

Advertisements

এই আপগ্রেডেশনের ফলে উত্তর দিনাজপুরসহ আশপাশের (power projects)এলাকায় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সহজ হবে এবং ভোল্টেজ স্থিতিশীলতা বাড়বে।দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি পূর্ব বর্ধমানের সদরঘাটে। সেখানে ১৫৭.২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস সাবস্টেশন তৈরি করা হবে।

এতে থাকবে ২×৮০ এমভিএ ট্রান্সফরমার এবং ১৩টি ফিডার বে। এই সাবস্টেশন স্থানীয় শিল্প ও গৃহস্থালি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হুগলির কিউ-২ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ১২০.০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২/৩৩/১১ কেভি জিআইএস সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে।

আরও দেখুনঃ ২৪ কোচের ৫০ টি নতুন বন্দে ভারত তৈরী করতে চলেছে চেন্নাইয়ের আইসিএফ

শিল্প পার্কের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এটি সহায়ক হবে। ( power projects)সবচেয়ে ছোট প্রকল্পটি কেএলসি বনতালায়। সেখানে ২৫.৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। বনতালা প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি তিনটি প্রকল্প ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। এই সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাজ্যের বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও গৃহস্থালি বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও শিল্প এলাকায় চাহিদার চাপ অনুভূত হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো সেই চাপ কমাতে সাহায্য করবে। জিআইএস বা গ্যাস ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করায় জায়গা কম লাগবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে। এছাড়া নতুন সংযোগ ও আপগ্রেডেশনের ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা কমবে এবং গুণগতমান বাড়বে।

ডব্লিউবিইআরসি-র এই অনুমোদন রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ( power projects)উন্নয়নের প্রতি সরকারের অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণেও সুবিধা হবে। হুগলির ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো এলাকায় নতুন শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা বাড়বে। রায়গঞ্জের মতো এলাকায় কৃষি ও গৃহস্থালি খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।

Advertisements