কলকাতা: আইআইটি খড়গপুরের ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের যাত্রা (IIT Kharagpur)। প্রায় এক হাজার কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্প শুধু ভবন নির্মাণ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রা, গবেষণা ও সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে নতুন মাত্রা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই রূপান্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এমন এক আধুনিক ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছে যেখানে পড়াশোনা, গবেষণা, খেলাধুলা ও মানসিক সুস্থতা সবকিছুই একসঙ্গে ফুটে উঠবে।
প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অংশ হলো পাঁচটি জি-প্লাস-আট হোস্টেল নির্মাণ। ( IIT Kharagpur)ছয়শো এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই হোস্টেলগুলোতে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ পাবেন। দুই হাজার সাতাশ সালের মধ্যে এগুলো সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিটি হোস্টেলে থাকছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, প্রযুক্তিগত কক্ষ, ছোট লাইব্রেরি, ইনডোর খেলার স্থান, সোলার প্যানেল এবং পুনর্ব্যবহৃত জলের ব্যবস্থা। শুধু থাকার জায়গা নয়, এগুলো হবে এমন জায়গা যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে বাড়ি থেকে দূরেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
আরও দেখুনঃ এসি বিস্ফোরণেই বিপত্তি? কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৯ বাংলাদেশি
গবেষণাপরায়ণ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা এক কমপ্লেক্সও তৈরি হচ্ছে, যেখানে প্রায় এক হাজার গবেষক থাকতে পারবেন। এতে গবেষণার পরিবেশ আরও নিবিড় ও কেন্দ্রীভূত হবে।মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হচ্ছে সেতু ওয়েলনেস সেন্টার। তেতাল্লিশ কোটি টাকার এই কেন্দ্রটি পাঁচ হাজার বর্গমিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত হবে।
এখানে থাকবে পঁচিশটিরও বেশি ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং রুম। (IIT Kharagpur)আজকের দিনে পড়াশোনার চাপ ও প্রতিযোগিতার মাঝে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই কেন্দ্রের মাধ্যমেই বোঝা যায়। কেউ যখন চাপ অনুভব করেন বা কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চান, তখন এই স্থানটি তাদের পাশে থাকবে।খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার জন্য তৈরি হচ্ছে ক্রিয়েট সেন্টার। বিশ হাজার বর্গমিটারের এই কেন্দ্রে থাকবে ইনডোর স্পোর্টস সুবিধা, দুইশো পঁচিশ জন ব্যবহার করতে পারবেন এমন ফিটনেস সেন্টার এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য জায়গা।
আরও দেখুনঃ কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণে শীর্ষে বাংলা! সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে উদ্বেগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
পড়াশোনার ফাঁকে শরীরচর্চা বা কোনো শিল্পকর্মের চর্চা সবই এখানে সম্ভব হবে। (IIT Kharagpur)এর পাশাপাশি নব্যা প্লাজা নামে ১৪কোটি টাকার একটি নতুন স্থান তৈরি হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। সিএসই বিভাগের জন্য পঁয়তাল্লিশ কোটি টাকার অ্যানেক্স এবং উনিশ কোটি টাকার ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং বেসিনও নির্মাণাধীন। এগুলো একাডেমিক ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
পরিবহন ব্যবস্থায়ও আসছে বড় পরিবর্তন। ই-সাইকেল শেয়ারিং ব্যবস্থা এবং অ্যাপ-ভিত্তিক বাস চালু হওয়ার ফলে ক্যাম্পাসের ভেতরে চলাচল আরও সহজ ও পরিবেশবান্ধব হবে। ছাত্রছাত্রীরা এখন আর দূরের জায়গায় যেতে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। সোলার প্যানেল ও পুনর্ব্যবহৃত জলের ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই পরিবেশের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছে।
