কলকাতা: বাংলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি রাজ্যের (Teenage Pregnancy)কিশোরী গর্ভধারণের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলা এই ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এবং এটি লজ্জার বিষয় হলেও তথ্য যা আছে তা মেনে নিতে হবে এবং জনগণকে জানাতে হবে। নতুন বিজেপি সরকারের ১০০ দিনের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন তিনি এবং এটি রাজ্যের অন্যতম বড় সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কিশোরী গর্ভধারণ বা তরুণীদের অকাল গর্ভধারণ (Teenage Pregnancy)রাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি মুর্শিদাবাদসহ কয়েকটি এলাকার নাম উল্লেখ করে বলেছেন, কিছু এলাকায় এই সমস্যা বিশেষভাবে প্রকট এবং কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে তা বেশি দেখা যায়। তবে এটি একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, সরকার এই সমস্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ভোররাতে কলকাতা বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড! এটিসি বিল্ডিংয়ে আগুন
স্থানীয় কমিউনিটি ডাক্তারদের দরজায় দরজায় পাঠিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং শিশু সুরক্ষা নীতিও এতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষাসহ বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে কিশোরী গর্ভধারণের হার দেশের অন্যান্য অনেক রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি। পূর্ববর্তী সমীক্ষায় এটি প্রায় ১৬ শতাংশের কাছাকাছি ছিল এবং সাম্প্রতিক তথ্যেও রাজ্যটি শীর্ষের দিকেই রয়েছে।
এই উচ্চ হার শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় না, বরং মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি, (Teenage Pregnancy)অপুষ্টি, শিক্ষা ব্যাহত হওয়া এবং দারিদ্র্যের চক্রকেও আরও শক্তিশালী করে। অল্পবয়সী মায়েদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি না থাকায় জটিলতা বাড়ে এবং নবজাতকদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি থাকে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ, শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব।
আরও দেখুনঃ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণ হবে ১৩০ কিলোমিটার! জানিয়ে দিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ
অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারের চাপে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং তারপর দ্রুত গর্ভধারণ ঘটে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে বলেছেন, তথ্য গোপন না করে জনগণকে জানানো দরকার যাতে সচেতনতা বাড়ে এবং সমস্যা মোকাবিলায় সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারে।নতুন সরকার এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
দরজায় দরজায় প্রচার, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পৃক্ততা (Teenage Pregnancy)এবং শিশু সুরক্ষা নীতির মাধ্যমে এই প্রবণতা কমানোর চেষ্টা চলছে। তবে সাফল্য পেতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি। মেয়েদের শিক্ষায় জোর দেওয়া, বিয়ের বয়স বাড়ানো এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
