মুম্বই: ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ পে-র জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। মেটার মালিকানাধীন এই মেসেজিং পরিষেবার ইউপিআই লেনদেন জুলাই ২০২৬-এ গত বছরের একই মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে হোয়াটসঅ্যাপ পে মোট ১৬৭.৮৯ মিলিয়ন বা প্রায় ১৬.৮ কোটি ইউপিআই লেনদেন করেছে। এই লেনদেনগুলির মোট মূল্য ছিল ১২,৯৫৭.০৭ কোটি টাকা।
এই বৃদ্ধির ফলে হোয়াটসঅ্যাপ পে এখন দেশের ইউপিআই অ্যাপগুলির মধ্যে লেনদেনের পরিমাণের বিচারে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। বর্তমানে এটি ক্রেড এবং অ্যামাজন পে-র মতো পরিষেবাকেও পিছনে ফেলেছে।
এক বছরে লেনদেন দ্বিগুণেরও বেশি
জুলাই ২০২৫-এ হোয়াটসঅ্যাপ পে-র মাধ্যমে ৭৪.৬ মিলিয়ন বা প্রায় ৭.৫ কোটি ইউপিআই লেনদেন হয়েছিল। সেই লেনদেনের মোট মূল্য ছিল ৫,৪১২.৫৮ কোটি টাকা।
এক বছরের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে ১৬৭.৮৯ মিলিয়নে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, লেনদেনের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে লেনদেনের মোট মূল্যও ৫,৪১২.৫৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১২,৯৫৭.০৭ কোটি টাকা হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ পে প্রথমবার ১০ কোটি লেনদেনের সীমা অতিক্রম করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। এরপর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পরিষেবাটির লেনদেনের পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্যবহারকারী যুক্ত করার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর গতি
হোয়াটসঅ্যাপ পে-র ইউপিআই ব্যবসার এই দ্রুত বৃদ্ধির পিছনে ব্যবহারকারী যুক্ত করার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া হোয়াটসঅ্যাপ পে-র নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত করার ক্ষেত্রে থাকা সীমাবদ্ধতা তুলে নেয়।
এর ফলে ভারতে পরিষেবাটির ব্যবহারকারী সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রায় ১৯ মাস পর লেনদেনের পরিমাণে এই বড় বৃদ্ধি দেখা গেল।
কীভাবে ইউপিআই-তে এসেছিল হোয়াটসঅ্যাপ পে?
ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে হোয়াটসঅ্যাপ পে-কে ইউপিআই পরিষেবা চালু করার অনুমতি দেয়। বহু-ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাপে ধাপে পরিষেবাটি চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রথমদিকে হোয়াটসঅ্যাপকে সর্বোচ্চ ২ কোটি ব্যবহারকারী যুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়। ২০২১ সালে সেই সীমা বাড়িয়ে ৪ কোটি করা হয়। এরপর ২০২২ সালে ব্যবহারকারী যুক্ত করার সীমা বাড়িয়ে ১০ কোটি করা হয়েছিল।
অবশেষে ২০২৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ পে-র ব্যবহারকারী অনবোর্ডিংয়ের উপর থাকা সীমাবদ্ধতা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়। এর ফলে সংস্থাটি ভারতীয় বাজারে ইউপিআই পরিষেবার পরিধি আরও দ্রুত বাড়ানোর সুযোগ পায়।
এখনও শীর্ষে ফোনপে, গুগল পে ও পেটিএম
হোয়াটসঅ্যাপ পে দ্রুত এগোলেও ভারতের ইউপিআই বাজারে এখনও অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ফোনপে, গুগল পে এবং পেটিএম।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফোনপে ১,০৮৫ কোটি ইউপিআই লেনদেন করেছে। গুগল পে-র লেনদেনের সংখ্যা ছিল ৭৬৪ কোটি। অন্যদিকে পেটিএম ১৯০ কোটি ইউপিআই লেনদেন করেছে।
এই তিনটি পরিষেবার তুলনায় হোয়াটসঅ্যাপ পে-র লেনদেনের পরিমাণ এখনও অনেক কম। তবে গত এক বছরে এর দ্রুত বৃদ্ধির হার পরিষেবাটির ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মেসেজিং থেকে ডিজিটাল পেমেন্টে হোয়াটসঅ্যাপ
ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের বিপুল ব্যবহারকারীভিত্তি রয়েছে। সেই ব্যবহারকারীভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে মেসেজিংয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবাও বাড়ানোর চেষ্টা করছে মেটা।
জুলাইয়ের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপ পে এখন শুধু একটি অতিরিক্ত পেমেন্ট সুবিধা নয়, বরং ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা ইউপিআই বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করছে। ব্যবহারকারী যুক্ত করার সীমাবদ্ধতা উঠে যাওয়ার পর পরিষেবাটির লেনদেনের গতি যে আরও বেড়েছে, সাম্প্রতিক তথ্যেই তার প্রতিফলন মিলেছে।
তবে ফোনপে, গুগল পে এবং পেটিএমের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে হোয়াটসঅ্যাপ পে-কে আরও দীর্ঘ সময় ধরে দ্রুত লেনদেন বৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে। জুলাইয়ের পরিসংখ্যান অবশ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারতীয় ডিজিটাল পেমেন্টের বাজারে হোয়াটসঅ্যাপ পে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হয়ে উঠছে।
