কলকাতা: শহরের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে কলকাতা মেট্রো। (Kolkata Metro)আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ কিলোমিটারে পৌঁছে যাবে। বর্তমানে পাঁচটি করিডরে মিলিয়ে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার চালু রয়েছে। মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার প্রেম সাগর গুপ্ত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এই লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন।
শহর ও তার আশপাশের শহরতলির মধ্যে সংযোগ আরও মজবুত হবে, (Kolkata Metro)যাতায়াতের সময় কমবে এবং রাস্তার জটও অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।বর্তমানে চালু থাকা নেটওয়ার্কে ব্লু লাইন প্রায় ৩২ কিলোমিটার, ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর বা গ্রিন লাইন ১৬.৬ কিলোমিটার, পার্পল লাইন ৭.৭৫ কিলোমিটার, ইয়েলো লাইন ৭.০৪ কিলোমিটার এবং অরেঞ্জ লাইন প্রায় ১০ কিলোমিটার। এই পাঁচটি রুট মিলিয়েই শহরের বিভিন্ন প্রান্তকে যুক্ত করে রেখেছে মেট্রো।
আরও দেখুনঃ সরাসরি জমি অধিগ্রহণ আর নয়! শিল্পের জন্য এবার বাজার দরে জমি কিনবে রাজ্য সরকার
দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ, হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর-ফাইভ, জোকা থেকে মাঝেরহাট, নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর এবং নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা এই রুটগুলো ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। (Kolkata Metro)যাত্রীর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে দ্রুত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কলকাতা মেট্রো প্রায় ২৩.৬০ কোটি যাত্রী পরিবহণ করেছে। এই সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, শহরের মানুষ কতটা নির্ভর করেছে এই দ্রুতগামী পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষেও সুখবর এসেছে। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র চার মাসে রাজস্ব এসেছে ১৬৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। ডিজিটাল টিকিট ও পেমেন্টের ব্যবহারও বেড়েছে। ‘আমার কলকাতা মেট্রো’ অ্যাপের মাধ্যমে টোকেন, স্মার্ট কার্ড বা কিউআর কোড ভিত্তিক টিকিট কেনা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে।
আরও দেখুনঃ ইসরায়েলি হামলায় ছিন্নভিন্ন লেবানন! নিহত ৭
সম্প্রসারণের পাশাপাশি মেট্রো কর্তৃপক্ষ স্টেশন আধুনিকায়ন, (Kolkata Metro)পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা এবং যাত্রী নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে। পুরনো স্টেশনগুলোকে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করে তোলা হচ্ছে। নতুন নতুন অংশে কাজ চলছে। আগামী বছরগুলোতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ চালু হলে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহরতলিতে যাওয়া আরও সহজ হয়ে উঠবে।
এয়ারপোর্ট এলাকা, পূর্ব ও দক্ষিণের নতুন এলাকাগুলো মেট্রোর আওতায় আসবে। ফলে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের দৈনিক যাতায়াত অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।কলকাতার রাস্তায় যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যা। গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু রাস্তার জায়গা বাড়ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে মেট্রোই হয়ে উঠছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প। (Kolkata Metro)দ্রুত, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী এই তিনটি কারণেই মানুষ মেট্রোর দিকে ঝুঁকছে। ১৩০ কিলোমিটারের নেটওয়ার্ক চালু হলে শহরের পরিবহণ মানচিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। দিল্লি বা মুম্বইয়ের মতো বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে তুলনা করলে এখনও দূরত্ব আছে, কিন্তু কলকাতার জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
