ভারতের জন্য প্রস্তাবিত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানে ষষ্ঠ প্রজন্মের ড্রোন নিয়ন্ত্রণ সুবিধা যুক্ত করেছে রাশিয়া

Su-57: রাশিয়ার সুখোই ডিজাইন ব্যুরো পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘সু-৫৭’-এর প্রস্তাবিত দুই-আসনের সংস্করণটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। এই বিমানটিকে কেবল প্রশিক্ষণ বিমান হিসেবেই নয়, বরং…

Su-57: রাশিয়ার সুখোই ডিজাইন ব্যুরো পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘সু-৫৭’-এর প্রস্তাবিত দুই-আসনের সংস্করণটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। এই বিমানটিকে কেবল প্রশিক্ষণ বিমান হিসেবেই নয়, বরং ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধ-বিমান চালনা প্রযুক্তির প্রবর্তনের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। ডিজাইন ব্যুরোর পরিচালক মিখাইল স্ট্রেলেৎসের মতে, অতিরিক্ত ককপিটটি বিমানটিকে একটি আকাশ-ভিত্তিক কমান্ড পোস্ট হিসেবে কাজ করতে সক্ষম করে তুলবে।

Advertisements

এই যুদ্ধবিমানটি প্রচলিত যুদ্ধবিমানের মতো অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি চালকবিহীন যুদ্ধবিমানকে (unmanned combat aircraft) নির্দেশ প্রদানেরও সক্ষমতা রাখবে। Su-57D নামে পরিচিত এই বিমানটি গত ১৯ মে তার প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। স্ট্রেলেটস ব্যাখ্যা করেন যে, দ্বিতীয় ক্রু সদস্যটি মূলত চালকবিহীন ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন; এর ফলে পাইলট সম্পূর্ণভাবে বিমান চালনা ও যুদ্ধ-অভিযানে মনোযোগ দিতে পারবেন, আর দ্বিতীয় পাইলট ড্রোন কমান্ড সেন্টারটি সামলাবেন।

   

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানে ষষ্ঠ প্রজন্মের ড্রোন নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা
এই ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটিকে ষষ্ঠ প্রজন্মের সক্ষমতা-সম্পন্ন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধারণার মূল লক্ষ্য হলো ‘এস-৭০ ওখোটনিক’ (S-70 Okhotnik) নামক ভারী ও চালকবিহীন যুদ্ধবিমানটিকে নিয়ন্ত্রণ করা; উল্লেখ্য যে, ‘সু-৫৭’ (Su-57) যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর ধরেই এই ড্রোনটির উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। রাশিয়া বারবার ‘ওখত্নিক’ (Okhotnik)-কে যুদ্ধবিমানের সঙ্গী বা ‘বিশ্বস্ত উইংম্যান’ হিসেবে তুলে ধরেছে; এর ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও উন্নত স্টিলথ সক্ষমতা এটিকে একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমানে পরিণত করতে পারে।

স্ট্রেলেটসের মতে, একজন অপারেটর কেবল একটিমাত্র বিমান নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত একাধিক ড্রোন—এমনকি ড্রোনগুলোর একটি পুরো ঝাঁক—নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন; এর ফলে প্রচলিত যুদ্ধবিমানের ভূমিকার বাইরেও Su-57-এর কার্যপরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে, ভবিষ্যৎ যুদ্ধ-বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি সেন্সর ফিউশন, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ, মিশন পরিকল্পনা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং চালকবিহীন বিমানের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সহজতর করবে। এই ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষার জন্য একটি কার্যকর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করলে নতুন সফটওয়্যার ও পরিচালন-পদ্ধতিগুলোকে আরও উন্নত ও নিখুঁত করা সম্ভব হবে।

Advertisements
Advertisements