Hero Splendor প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল: কেন আলাদা, জানুন সেরা ৫ বৈশিষ্ট্য

গুরুগাঁও: ভারতের সবচেয়ে পরিচিত কমিউটার মোটরসাইকেলগুলির অন্যতম হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস (Hero Splendor) এবার আরও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিকল্প নিয়ে এসেছে। স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল-কে এমনভাবে তৈরি…

hero-splendor-plus-flex-fuel-e85-top-5-features

গুরুগাঁও: ভারতের সবচেয়ে পরিচিত কমিউটার মোটরসাইকেলগুলির অন্যতম হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস (Hero Splendor) এবার আরও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিকল্প নিয়ে এসেছে। স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল-কে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি সর্বোচ্চ ই৮৫ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে পারে। ই৮৫ বলতে বোঝায় ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং ১৫ শতাংশ পেট্রল। সাধারণ স্প্লেন্ডার প্লাসের পরিচিত ডিজাইন ও ব্যবহারিক চরিত্র বজায় রেখেই নতুন মডেলটি ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। দেখে নেওয়া যাক বাইকটির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

Advertisements

১. হিরোর প্রথম ফ্লেক্স ফুয়েল মোটরসাইকেল

স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল হল ভারতে হিরোর প্রথম ফ্লেক্স ফুয়েল মোটরসাইকেল। একই সময়ে সংস্থা এইচএফ ডিলাক্স ফ্লেক্স ফুয়েল-ও বাজারে এনেছে। ফলে শুরুতেই দুটি ফ্লেক্স ফুয়েল কমিউটার মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হয়েছে হিরো। তবে এর আগে ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তি নিয়ে হিরো নিজেদের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২০২৩ সালের অটো এক্সপোতে গ্ল্যামার এক্সটেক ফ্লেক্স ফুয়েল-এর একটি প্রোটোটাইপ দেখানো হয়েছিল। নতুন স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল সেই পরিকল্পনাকেই উৎপাদন মডেলের রূপ দিয়েছে।

   

২. ই৫ থেকে ই৮৫ পর্যন্ত জ্বালানিতে চলবে

বাইকটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য অবশ্যই এর ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তি। সংশোধিত ইসিইউ এবং উন্নত ফুয়েল সিস্টেমের বিভিন্ন উপাদানের সাহায্যে বাইকটি ই৫ থেকে ই৮৫ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে পারে। অর্থাৎ সাধারণ পেট্রলে সামান্য ইথানল মেশানো জ্বালানি থেকে শুরু করে ৮৫ শতাংশ ইথানলযুক্ত ই৮৫ জ্বালানি পর্যন্ত ব্যবহার করার সক্ষমতা রয়েছে। বাইকটিতে রয়েছে ৯৭.২ সিসি এয়ার-কুলড ইঞ্জিন। ই৮৫ জ্বালানিতে এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ৮.৫৬ পিএস শক্তি এবং ৮.৩ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। ইঞ্জিনের সঙ্গে আগের মতোই ৪-স্পিড গিয়ারবক্স রয়েছে। মজার বিষয় হল, এই পরিসংখ্যান স্ট্যান্ডার্ড ই২০ পেট্রল সংস্করণের তুলনায় সামান্য বেশি। সাধারণ স্প্লেন্ডার প্লাস ই২০ সংস্করণে ইঞ্জিনটি ৮.০২ পিএস শক্তি এবং ৮.০৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে।

৩. দেখতে প্রায় হুবহু স্প্লেন্ডার প্লাস

ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তি থাকলেও ডিজাইনের ক্ষেত্রে হিরো খুব বেশি পরিবর্তন করেনি। প্রথম দেখায় সাধারণ স্প্লেন্ডার প্লাসের সঙ্গে নতুন মডেলটির পার্থক্য বোঝা কঠিন। একই পরিচিত সিলুয়েট, বক্সি হেডলাইট এবং সাধারণ সাইড প্যানেল রাখা হয়েছে। তবে রঙের ক্ষেত্রে কিছুটা আলাদা পরিচয় রয়েছে। বাইকটিতে কালো বডির সঙ্গে লাইম ইয়েলো গ্রাফিক্স দেওয়া হয়েছে। এই রঙের সংমিশ্রণই মূলত ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণটিকে সাধারণ স্প্লেন্ডার প্লাস থেকে আলাদা করে চেনার অন্যতম উপায়।

Advertisements

৪. পরিচিত ফিচারের সঙ্গে ছোট পরিবর্তন

ফিচারের ক্ষেত্রে স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল মূলত স্ট্যান্ডার্ড মডেলের পরিচিত সরঞ্জামগুলিই ধরে রেখেছে।
এর মধ্যে রয়েছে:
• হিরোর আই৩এস আইডল-স্টপ-স্টার্ট প্রযুক্তি
• সাইড-স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফ
• ইউএসবি চার্জিং পোর্ট

তবে ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোলে একটি ছোট পরিবর্তন করা হয়েছে। সাধারণ স্প্লেন্ডার প্লাসে সম্পূর্ণ অ্যানালগ কনসোল থাকলেও ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণে অ্যানালগ স্পিডোমিটারের সঙ্গে ডিজিটাল ফুয়েল গেজ রয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে উল্লেখযোগ্য নতুন কোনও কার্যকারিতা যোগ হচ্ছে না। হেডলাইট-সহ অন্যান্য আলো ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন নেই। এখানে আরও একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, সামনের ডিস্ক ব্রেক নেই। এই সুবিধাটি স্প্লেন্ডার প্লাস এক্সটেক-এর জন্য রাখা হয়েছে।

৫. দাম প্রায় ৫,০০০ টাকা বেশি

ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তির জন্য খুব বড় প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে না। দিল্লিতে স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েলের এক্স-শোরুম দাম ৮২,৭১০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ পেট্রলচালিত স্প্লেন্ডার প্লাসের দাম ৭৭,৭৭৭ টাকা। অর্থাৎ ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণের জন্য অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ৫,০০০ টাকা। দিল্লিতে এর আনুমানিক অন-রোড দাম প্রায় ৯৫,৪৪৬ টাকা।

১০০ সিসির কমিউটার মোটরসাইকেল হিসেবে এই দাম কিছুটা বেশি মনে হতে পারে। তবে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রাখলে ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে বাইকটিকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে পারে।

এক নজরে হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল

hero-splendor-plus-flex-fuel-e85-top-5-features

হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স ফুয়েল মূল স্প্লেন্ডারের পরিচিত কমিউটার চরিত্রকে ধরে রেখেই ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি যোগ করেছে। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ই৫ থেকে ই৮৫ পর্যন্ত জ্বালানি ব্যবহারের সক্ষমতা, আর এর জন্য সাধারণ মডেলের তুলনায় অতিরিক্ত খরচও প্রায় ৫,০০০ টাকা।

Advertisements