তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটে নাজেহাল বাংলাদেশ, কেন এই পরিস্থিতি?

ঢাকা: গ্যাস সঙ্কটের জেরে বাংলাদেশ জুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত। শহর থেকে গ্রাম,…

ঢাকা: গ্যাস সঙ্কটের জেরে বাংলাদেশ জুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই বিদ্যুতের হাহাকার। এই চরম সঙ্কট মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার (১৩ অগস্ট) থেকে দেশজুড়ে রাত ৮টার মধ্যে সমস্ত দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

Advertisements

সরকারি নির্দেশিকা ও বিধিনিষেধ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রকের তরফে জারি করা নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

   

আগামী ১৩ অগস্ট থেকে দেশের সমস্ত শপিংমল ও দোকানপাট সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। (আগে এই সময়সীমা রাত ৯টা পর্যন্ত ছিল)।

সন্ধে ৭টার মধ্যে সমস্ত বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড বন্ধ করতে হবে।

Advertisements

দেশে আপাতত কোনও মেলা, রাতের অনুষ্ঠান এবং আলোকসজ্জা করা যাবে না।

তবে খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান এবং হাসপাতাল এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকবে।

বিদ্যুৎ সঙ্কটের ভয়াবহ চিত্র
গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। গ্রাহকদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। যার জেরে বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বুধবারের (১২ অগস্ট) সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সকাল ৮টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫,২৪৯ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ ছিল মাত্র ১২,৯৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল প্রায় ২,৩১৪ মেগাওয়াট। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় জনরোষ বাড়ার আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি জেলার বিদ্যুৎ বণ্টন কর্তৃপক্ষ নিজেদের কার্যালয়ে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।

এই চরম সঙ্কটের নেপথ্যে কোন কারণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত তিনটি বড় কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুতের এই ভয়াবহ হাহাকার তৈরি হয়েছে:

জ্বালানি আমদানিতে ধাক্কা: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত মূলত আমদানিনির্ভর (প্রায় ৬৫ শতাংশ)। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি প্রভাবিত হওয়ায় গত তিন সপ্তাহ ধরে এলএনজি (LNG) সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে কারিগরি ত্রুটি: মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মক কমে গিয়েছে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না। এর পাশাপাশি কয়লা সরবরাহের অভাবে বড়পুকুরিয়ার মতো বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন থমকে গিয়েছে।

ভারত থেকে আমদানি হ্রাস ও বকেয়া বিল: ভারত থেকে বিদ্যুৎ রফতানিও বেশ কমেছে। আদানির কাছ থেকে যেখানে প্রায় ১৪৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসত, তা কমে এখন ১০১৩ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আমদানিকারকদের সরকারের বিপুল বকেয়া মেটানো বাকি থাকা এবং বণ্টনকারী সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যাও এই সঙ্কটকে আরও তীব্র করেছে।

আধিকারিকদের মতে, এই বহুমুখী সঙ্কট কাটিয়ে উঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

হাসিনার বৈঠকে যোগ! কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাকিবের বাড়িতে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ল দুষ্কৃতীরা

ডিসেম্বরে হাসিনা ফিরলে তাকে পূর্ন নিরাপত্তা দেওয়া হবে! দাবি তারেক রহমানের উপদেষ্টার

Advertisements