গুরুগাঁও: ভারতের এসইউভি বাজারে নতুন মডেল আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জেএসডব্লিউ এমজি মোটর। সংস্থার আসন্ন মডেলটির নাম এমজি হেক্টর হক (MG Hector Hawk) হতে পারে এবং এটি সম্ভবত ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ভারতে লঞ্চ হবে। যদিও এমজি এখনও গাড়িটির চূড়ান্ত নাম এবং সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, তবে এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নতুন এসইউভিতে প্লাগ-ইন হাইব্রিড বা পিএইচইভি পাওয়ারট্রেন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন হেক্টর হকের মাধ্যমে এমজি তাদের পরিচিত রাগড এসইউভি ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির সমন্বয় করতে চাইছে। গাড়িটি বড় পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। কারণ এতে তিন সারির কেবিন এবং সাতটি আসন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমজি হেক্টর হক: কী ইঞ্জিন ও পাওয়ারট্রেন থাকতে পারে?
হেক্টর হকের ভিত্তি হিসেবে বিদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া উলিং স্টারলাইট ৫৬০-এর কথা উঠে আসছে। নতুন এসইউভিটি এমজির নতুন অ্যাডাপ্ট আর্কিটেকচার প্ল্যাটফর্মের উপর তৈরি হতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মটি বিভিন্ন ধরনের পাওয়ারট্রেন ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক, স্ট্রং হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং রেঞ্জ-এক্সটেন্ডার পাওয়ারট্রেন।
হেক্টর হকের সম্ভাব্য প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণে একটি ১.৫-লিটার পেট্রল ইঞ্জিন, একটি ইলেকট্রিক মোটর এবং ২০.৫ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাক থাকতে পারে। বিদেশের বাজারের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, এই সেটআপ থেকে সম্মিলিতভাবে ১৯৭ এইচপি শক্তি এবং ২৩০ এনএম টর্ক পাওয়া যেতে পারে।
শুধু ব্যাটারির শক্তিতে গাড়িটি সর্বোচ্চ ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পেট্রল ইঞ্জিন এবং ইলেকট্রিক মোটর দুটিই ব্যবহার করলে মোট রেঞ্জ প্রায় ১১০০ কিলোমিটার হতে পারে।
তবে ভারতে আসা গাড়িটির ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান একই থাকবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। লঞ্চের সময় ভারতীয় সংস্করণের চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করতে পারে এমজি।
এমজি হেক্টর হকের সম্ভাব্য দাম কত?
নতুন এসইউভিটির দাম ভারতে ২০-২৭ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম)-এর মধ্যে থাকতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। গাড়িটির চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে স্থানীয় উৎপাদন, ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী সরঞ্জাম এবং এমজি তাদের ব্যাটারি-অ্যাস-এ-সার্ভিস বা ব্যাটারি ভাড়া দেওয়ার পরিষেবা চালু করে কি না, তার উপর। এই দামের পরিসরে হেক্টর হককে পরিবারকেন্দ্রিক এসইউভি ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে পারে এমজি।
কোন গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে হেক্টর হক?
হেক্টর হকের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী নির্ভর করবে এর পাওয়ারট্রেন এবং ভারতীয় বাজারে এমজি কীভাবে গাড়িটিকে পজিশন করে তার উপর।
অল-ইলেকট্রিক বা পুরোপুরি বৈদ্যুতিক হক বাজারে এলে এটি মাহিন্দ্রা এক্সইভি ৯এস-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। অন্যদিকে, চলতি বছরের শেষ দিকে আসতে পারে বলে প্রত্যাশিত প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণটি মাহিন্দ্রা এক্সইউভি ৭এক্সও এবং টাটা সাফারি-র মতো এসইউভির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
হেক্টর প্লাসের তুলনায় বড় হবে নতুন এসইউভি
আকারের দিক থেকেও নতুন হেক্টর হক নজর কাড়তে পারে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪৭৪৫ মিলিমিটার, প্রস্থ ১৮৫০ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১৭৭০ মিলিমিটার হতে পারে। এর হুইলবেস ২৮১০ মিলিমিটার।
এই মাপ অনুযায়ী নতুন এসইউভিটি হেক্টর প্লাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হবে। অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহার করে এমজি এতে একটি বাস্তবসম্মত তিন সারির আসন বিন্যাস দিতে পারে। ফলে সাতটি আসন-সহ গাড়িটি বড় পরিবারের জন্য ব্যবহারিক বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
হেক্টর হকের ডিজাইনে কী পরিবর্তন থাকছে?
ডিজাইনের ক্ষেত্রে নতুন হক বর্তমান হেক্টরের থেকে আলাদা চেহারা পেতে পারে। সামনে সরু ডিআরএল বা ডে-টাইম রানিং লাইট এবং আয়তাকার হেডল্যাম্প থাকতে পারে। এর সঙ্গে চৌকো ধরনের হুইল আর্চ এবং প্রায় উল্লম্ব টেলগেট গাড়িটিকে আরও শক্তপোক্ত ও সোজা-স্ট্যান্সের এসইউভির মতো চেহারা দিতে পারে।
ভারতে দেখা প্রোটোটাইপগুলোর ডিজাইনে এখনও উলিং স্টারলাইট ৫৬০-এর সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে ভারতীয় বাজারের জন্য এমজি গ্রিল, বাম্পার, আলো এবং ব্যাজিংয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে পারে।অর্থাৎ, মূল নকশার সঙ্গে মিল থাকলেও ভারতীয় ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী গাড়িটির বাহ্যিক চেহারায় আলাদা বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে।
কেবিনে মিলতে পারে আধুনিক ফিচার
বিদেশের সংস্করণে হেক্টর হকের কেবিনে আধুনিক ডিজাইনের পাশাপাশি একাধিক প্রযুক্তিনির্ভর ফিচার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮.৮-ইঞ্চি ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং ১২.৮-ইঞ্চি কেন্দ্রীয় টাচস্ক্রিন।
সম্ভাব্য ফিচারের তালিকায় থাকতে পারে প্যানোরামিক সানরুফ, ভেন্টিলেটেড এবং পাওয়ারড সামনের আসন, ওয়্যারলেস চার্জিং, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, পিছনের সারির জন্য এসি ভেন্ট, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং এডিএএস বা অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম।
তবে ভারতীয় সংস্করণের কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন ফিচার থাকবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। লঞ্চের কাছাকাছি সময়ে এমজি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারে।
পরিবারকেন্দ্রিক ক্রেতাদের নজরে আসতে পারে
এমজি হেক্টর হক ভারতে এলে এসইউভি বাজারে নতুন ধরনের পাওয়ারট্রেনের বিকল্প তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে প্লাগ-ইন হাইব্রিড প্রযুক্তি, সাত আসনের কেবিন, বড় আকার এবং সম্ভাব্য ১১০০ কিলোমিটার মোট রেঞ্জের কারণে গাড়িটি পরিবারকেন্দ্রিক এসইউভি ক্রেতাদের নজরে আসতে পারে।
তবে গাড়িটির চূড়ান্ত নাম, দাম, ফিচার, পাওয়ারট্রেন এবং ভারতীয় সংস্করণের রেঞ্জ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের জন্য এমজির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের
