ঢাকাঃ বাংলাদেশের সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna)এখনও কারাগারে বন্দি। রাষ্ট্রদ্রোহসহ একাধিক মামলায় তাঁকে আটক রাখা হয়েছে। সম্প্রতি কিছু মামলায় জামিন মিললেও অন্যান্য মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ। চট্টগ্রামের এক হাসপাতালে তিনি মৃত্যুসজ্জায় শায়িত।
মায়ের একমাত্র ইচ্ছে মৃত্যুর আগে একবার ছেলের মুখ দেখা।সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ মা বিছানায় শুয়ে দুই হাত জোড় করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন। তিনি ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করে বলছেন, মৃত্যুর আগে অন্তত একবার ছেলেকে দেখতে চান। মায়ের কণ্ঠে কান্না ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। এই আবেদনটি সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোড়ন তুলেছে।
আরও দেখুনঃ নজরে BRICS সম্মেলন! ভারতে আমন্ত্রণ জানাতে তারেক বৈঠকে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
অনেকেই বলছেন, মানবিকতার জায়গা থেকে সরকার যেন বিষয়টি বিবেচনা করে।চিন্ময়কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna)২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হন। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। সেই মামলায় জামিন না মেলায় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে এক আইনজীবী নিহত হন। এরপর তাঁর নামে হত্যাসহ আরও কয়েকটি মামলা হয়।
বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।হাইকোর্ট থেকে কিছু মামলায় জামিন মিলেছে। আগস্টের শুরুতে হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের দুই মামলায় জামিন পান তিনি। এর আগেও একটি মামলায় জামিন মিলেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত রয়েছে এবং হত্যা মামলাসহ অন্যান্য মামলায় এখনও জামিন হয়নি। ফলে তিনি কারাগারেই আছেন।
আরও দেখুনঃ শত্রুদের চমকে দিতে ২৪ টি চিনা জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার খুব কাছে বাংলাদেশ
আইনজীবীরা বলছেন, সব মামলায় জামিন না হলে মুক্তি সম্ভব নয়।মায়ের এই আবেদন নিয়ে সনাতনী সংগঠনগুলো এবং মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, চিন্ময়কৃষ্ণ দাস সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থাও খারাপ। মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করা মানবিক দায়িত্ব।
অনেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়।অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারপক্ষ বলছে, মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন। আইনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে মুক্তি দেওয়া হয় না। তবে মানবিক ভিত্তিতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।
