কলকাতা: কলকাতার পার্পল লাইন মেট্রোর (Kolkata Metro) ভূগর্ভস্থ অংশের নির্মাণে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ করতে চলেছে টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ‘দিব্যা’। আজ, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ আসন্ন ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনের দেওয়াল ভেঙে টিবিএমটির বেরিয়ে আসার কথা।
এর আগে ‘দিব্যা’র যমজ টিবিএম ‘দুর্গা’ একই জায়গায় পৌঁছেছিল। ২০২৫ সালের ১০ জুলাই খিদিরপুরের সেন্ট থমাস স্কুলের নিচ থেকে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু করেছিল ‘দুর্গা’। ঠিক এক বছর পর, ২০২৬ সালের ১০ জুলাই সেটি ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে দেওয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসে।
‘দিব্যা’ তার সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু করেছিল ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর। খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত প্রায় ১.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ তৈরি করেছে এই টিবিএম। ‘দুর্গা’র প্রায় তিন মাস পর কাজে নামলেও এবার তারও যাত্রা শেষ হতে চলেছে।
Also Read | প্রথম বারের জন্য ২০২৭ র ইন্ডিয়া এনারজি উইক অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়
মঙ্গলবারের এই টিবিএম ব্রেকথ্রুর মাধ্যমে কলকাতায় পার্পল লাইনের সুড়ঙ্গ নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পূর্ণ হবে। ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ জোকা-এসপ্ল্যানেড করিডরের জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যেই উড়ালপথে রয়েছে।
অন্যদিকে, খিদিরপুর থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ অংশ তৈরির কাজ চলছে। বিশাল টানেল বোরিং মেশিনের মাধ্যমে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত সুড়ঙ্গ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে পার্পল লাইন মেট্রোর সঙ্গে ব্লু বা নর্থ-সাউথ লাইনের পার্ক স্ট্রিট স্টেশনের সংযোগ তৈরি হবে।
প্রথম পর্যায়ে টিবিএম ‘দুর্গা’ ও ‘দিব্যা’ খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত জোড়া সুড়ঙ্গ তৈরি করছে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ভিক্টোরিয়া থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ সংযোগকারী সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ হবে।
Also Read | কলকাতার শিল্প-লজিস্টিকস খাতে বড় সাফল্য! চলতি বছরেই ১৮ লক্ষ বর্গফুট জায়গা নেওয়া হল লিজ
পার্ক স্ট্রিটের পর অবশ্য সুড়ঙ্গ নির্মাণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। সেখানে টিবিএমের পরিবর্তে কাট-অ্যান্ড-কভার পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ অংশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
‘দিব্যা’র ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছে যাওয়া তাই শুধু একটি টিবিএমের যাত্রা শেষ হওয়া নয়, কলকাতার পার্পল লাইন মেট্রোর দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ অংশ নির্মাণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
