কলকাতা: দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা স্ন্যাকস বাজারে বড় পদক্ষেপ নিল ইমামি গ্রুপ। গ্রুপের খাদ্যপণ্য বিভাগ Emami Agrotech Limited (EAL) নতুন স্ন্যাকস ব্র্যান্ড ‘WeMe’ বাজারে এনেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা গড়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে সংস্থা।
প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার ইমামি গ্রুপের ব্র্যান্ডেড ফুডস ব্যবসার অংশ EAL। সংস্থার লক্ষ্য, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ‘WeMe’-কে ১,০০০ কোটি টাকার ব্র্যান্ডে পরিণত করা।
ইমামি গ্রুপের ডিরেক্টর আদিত্য আগরওয়াল জানান, বর্তমানে ভারতের স্ন্যাকস বাজারের আকার প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা এবং এই বাজার ১০ শতাংশ CAGR হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সম্ভাবনাময় বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে সংস্থা।
‘WeMe’-র প্রথম পর্যায়ের পণ্যের তালিকায় রয়েছে চকো হ্যাজেলনাট স্প্রেড, ঝুরি আলুভাজা এবং পটেটো চিপস। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস এই ব্র্যান্ডের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

এই সম্প্রসারণকে সমর্থন করতে আগামী দুই বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি নতুন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ব্র্যান্ড প্রচার এবং বিপণনের জন্য আগামী কয়েক বছরে আরও ৩৫০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমামির ডিরেক্টর বিদুলা আগরওয়াল। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে যে সব পণ্যের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ করা হচ্ছে, সেই বিভাগগুলির সম্মিলিত বাজারের আকার প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকা। ক্রেতাদের সাড়া অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও নতুন স্ন্যাকস ক্যাটাগরি যুক্ত করা হবে।
সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে ‘WeMe’-র বাজার বিস্তার করা হবে। এরপর ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ব্র্যান্ডটি সম্প্রসারণ করা হবে।
বিদুলা আগরওয়াল জানান, পশ্চিমবঙ্গ একাই সংস্থার লক্ষ্যবস্তু স্ন্যাকস বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজ্যে অন্তত ৩ শতাংশ বাজার দখলের লক্ষ্য নিয়েছে Emami Agrotech।
ইতিমধ্যেই ‘WeMe’-র কিছু পণ্য Blinkit-এ পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কলকাতার প্রায় ২৫,০০০ খুচরো দোকানে এই ব্র্যান্ডের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংস্থা ‘WeMe’-কে ডিজিটাল-ফার্স্ট ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। অনলাইন বিক্রির পাশাপাশি দ্রুত অফলাইন রিটেল নেটওয়ার্কও সম্প্রসারণ করা হবে।
আদিত্য আগরওয়াল জানান, স্ন্যাকস ব্যবসায় লাভের মার্জিন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। যেখানে এডিবল অয়েলে মার্জিন ২ থেকে ৪ শতাংশ, মশলা ও শস্যজাত পণ্যে ৬ থেকে ১৫ শতাংশ, সেখানে স্ন্যাকস বিভাগে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত মার্জিন পাওয়া যায়। এই কারণেই সংস্থা স্ন্যাকস বাজারে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে Emami Agrotech Limited-এর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা। নতুন ব্র্যান্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তাবিত কারখানার মাধ্যমে সংস্থা খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় আরও বড় উপস্থিতি তৈরি করতে চাইছে।
