সানা: ইরান-সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার সমুদ্রপথে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেন (Yemen) উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, MSV Faize Noore Oliya নামে ভারতীয় কার্গো জাহাজটি একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়। তবে স্বস্তির খবর, জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। ইয়েমেন কোস্ট গার্ড দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করে মোখা (Mokha) বন্দরে নিয়ে যায়। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন পশ্চিম এশিয়ার সমুদ্রপথে একের পর এক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
একই দিনে হরমুজ প্রণালীর কাছে আরেকটি ড্রাই বাল্ক কার্গো জাহাজও একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। ওই জাহাজের কর্মীরা জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। তবে একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
Indian MSV Faize Noore Oliya has been hit by a projectile near Yemeni waters, causing the vessel to capsize and sink.
India strongly condemns this unprovoked attack on the defenseless mechanised sailing vessel. The safety of our people is our supreme priority & I am relieved to…
— Sarbananda Sonowal (@sarbanandsonwal) August 4, 2026
এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা Kpler-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরাকের হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় ৭১ শতাংশ কমে গেছে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে ইরাক প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ১০.৫ কোটি ব্যারেল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ (Naval Blockade) কার্যকর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই রুটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারতীয় কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত হামলার দায় কোনও সংগঠন বা দেশের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
