Asteroid: গ্রহাণু হলো প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সৌরজগৎ সৃষ্টির সময় অবশিষ্ট থাকা পাথুরে টুকরো। এগুলোর অধিকাংশই মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে, তবে কোনো কোনোটির গতিপথ পৃথিবীর কক্ষপথকে অতিক্রম করে। যদি এমন কোনো বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তবে তার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ হবে অকল্পনীয়। এই ঝুঁকির গুরুত্ব বোঝা যায় একটি ঘটনা থেকে—২০১৯ সালে ১৩০ মিটার চওড়া একটি গ্রহাণু পৃথিবী থেকে মাত্র ৭২,০০০ কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করেছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়টি হলো, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একেবারে শেষ মুহূর্তে বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি এত কাছে চলে আসছে। ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের কোনো বড় হুমকি আমাদের দিকে ধেয়ে আসে, তবে তা মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা কী পদক্ষেপ নিতে পারবেন? বর্তমানে গ্রহ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের হাতে দুটি প্রধান পদ্ধতি বা মডেল রয়েছে: নাসার ‘ডার্ট’ (DART) মিশন এবং চিনের প্রস্তাবিত পারমাণবিক পরিকল্পনা। আসুন দেখা যাক, এদের মধ্যে কোনটি পৃথিবীর প্রকৃত রক্ষক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
নাসার ডার্ট (DART) মিশন
২০২২ সালে নাসা প্রথমবারের মতো বিশ্বকে দেখিয়েছিল যে, পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনো হুমকির গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব। নাসার ডার্ট (ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট) মিশনের আওতায় একটি মহাকাশযানকে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি গ্রহাণুর সাথে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল।
মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম প্রকৃত ও সফল পরীক্ষা। এই সংঘর্ষের ফলে গ্রহাণুটির গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৭ মিলিমিটার কমে যায় এবং এর গতিপথ সামান্য পরিবর্তিত হয়। তবে, ছোট আকারের গ্রহাণুর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও, হঠাৎ কোনো বিশাল গ্রহাণু—যার ব্যাস শত শত মিটার বা কিলোমিটারের মতো—সামনে চলে এলে তাকে থামানোর জন্য এটি যথেষ্ট হবে না; কারণ একটিমাত্র মহাকাশযানের সংঘর্ষে যে শক্তি উৎপন্ন হবে, তা এর জন্য পর্যাপ্ত নয়।
চিনের পারমাণবিক পরিকল্পনা
সংঘর্ষ-ভিত্তিক পদ্ধতি যখন যথেষ্ট হয় না, তখন কী করা উচিত? বেইজিং-এর ‘চায়না একাডেমি অফ লঞ্চ ভেহিকেল টেকনোলজি’-র গবেষকরা এর উত্তর দিয়েছেন। মে মাসে *‘স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’* (Space: Science & Technology) জার্নালে প্রকাশিত তাঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হঠাৎ আবির্ভূত কোনো বিশাল গ্রহাণুকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পারমাণবিক বোমা দিয়ে সেটিকে ধ্বংস করে ফেলা।
এই পদ্ধতিটি ১৯৯৮ সালের বিখ্যাত হলিউড চলচ্চিত্র ‘আর্মাগেডন’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়, তবে চিনের পরিকল্পনাটি হবে সম্পূর্ণ মানববিহীন। চিনের এই দুই-ধাপের প্রক্রিয়াটি যেভাবে কাজ করবে তা হলো:
প্রথমত, একটি মহাকাশযান গ্রহাণুটির দিকে ধাতব ‘পেনিট্রেটর’ (বা আঘাতকারী বস্তু) নিক্ষেপ করবে, যা এর পৃষ্ঠতলে ৩০ মিটার গভীর একটি গর্ত তৈরি করবে।
ঠিক পেছনে থাকা দ্বিতীয় একটি মহাকাশযান সেই ৩০ মিটার গভীর গর্তে একটি পারমাণবিক বোমা ফেলবে এবং সেটির বিস্ফোরণ ঘটাবে।
