কলকাতার ভূতনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে মানবিক উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল যুব-নেতৃত্বাধীন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা Support Wings। সংস্থার অন্যতম প্রধান সামাজিক কর্মসূচি ‘Meals That Heal’-এর আওতায় ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১০০-রও বেশি প্রবীণ মানুষের হাতে পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়া হয়। শুধু খাবার বিতরণ নয়, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, কথা বলে এবং পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলারও চেষ্টা করেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।
Support Wings জানিয়েছে, Meals That Heal শুধুমাত্র ক্ষুধা নিবারণের কর্মসূচি নয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের কাছে সহমর্মিতা, সম্মান এবং মানসিক সঙ্গ পৌঁছে দেওয়া। সংস্থার মতে, অনেক সময় একটি আন্তরিক কথোপকথন বা কিছুটা সময় দেওয়াও মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবকেরা ভূতনাথ মন্দির চত্বরে বসবাসকারী বা সেখানে আশ্রয় নেওয়া প্রবীণদের হাতে নিজে গিয়ে খাবার তুলে দেন। পাশাপাশি তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা শোনেন, কথা বলেন এবং কিছুটা সময় তাঁদের সঙ্গে কাটান। এর ফলে উদ্যোগটি শুধুমাত্র খাদ্য বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যত্ন ও মানবিকতার পরিবেশ তৈরি করেছে।
সংস্থার দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সমাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল করে তোলারও চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুবকদের মধ্যে সহমর্মিতা, নেতৃত্বের গুণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মানসিকতা গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বর্তমানে Support Wings-এর সঙ্গে ৮০টিরও বেশি শহরে ১০,০০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটি ক্ষুধা নিবারণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট-সহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে সংস্থার ডিরেক্টর রাজলক্ষ্মী বণিক বলেন, “Meals That Heal শুধু খাবার বিতরণের কর্মসূচি নয়, এটি মানবিকতার উদযাপন। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে হওয়া প্রতিটি আলাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দয়া, মর্যাদা এবং সহমর্মিতাই মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। আমরা চাই আরও বেশি তরুণ সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসুক এবং একটি আরও যত্নশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে ভূমিকা নিক।”
কলকাতায় সফলভাবে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে Support Wings আবারও তাদের সমাজসেবামূলক লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করল। সংস্থার মতে, ছোট ছোট উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই দীর্ঘমেয়াদে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের সামাজিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
