লাল গ্রহ কি কখনও বাসযোগ্য ছিল? মঙ্গলে মিলল ম্যাগমার নদীর প্রমাণ!

Rivers Of Magma In Mars: পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের…

Mars

Rivers Of Magma In Mars: পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গেছে যে, একসময় মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের নিচে ম্যাগমার নদী প্রবাহিত হতো।

Advertisements

বিজ্ঞানীদের পরিচালিত এই গবেষণা জোরালোভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, বহু আগে মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান ছিল। এই গবেষণাটি অন্যান্য পাথুরে গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের বিষয়েও নতুন আশার সঞ্চার করেছে—যেসব গ্রহকে আগে প্রাণের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হতো না। এই আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।

   

ভূকম্পন তরঙ্গ রেকর্ড করা হয়েছে
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা নাসার ‘ইনসাইট’ (InSight) ল্যান্ডারের সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এই ল্যান্ডারটি উল্কাপাত ও মঙ্গলগ্রহের ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূকম্পন তরঙ্গ রেকর্ড করেছিল। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলপৃষ্ঠের প্রায় ২৪ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত একটি রহস্যময় স্তর নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণার ফলাফল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ (Nature Astronomy) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণালব্ধ ফলাফল
গবেষণায় দেখা গেছে যে, মঙ্গলে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ম্যাগমা প্রকোষ্ঠই ছিল না; বরং গ্রহটির পৃষ্ঠের নিচে একটি বিশাল ও পরস্পর-সংযুক্ত ম্যাগমা-ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, এই ব্যবস্থাটি গ্রহের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর আদান-প্রদানে সহায়তা করে। এছাড়া, এটি বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগর সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলোকে সহায়তা করার ক্ষমতা রাখে—যা গ্রহের কাঠামোর জটিলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর বিকাশের প্রক্রিয়াগুলোকে সচল রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারত।
জীবনের অস্তিত্বের সম্ভাবনা বৃদ্ধি
গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যাগমা-সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়াটি কোনো গ্রহের তাপমাত্রা ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে থাকতে পারে। আগে ধারণা করা হতো, কেবল ‘প্লেট টেকটোনিক্স’ বা ভূ-ত্বকীয় পাত সঞ্চালন ব্যবস্থা থাকা গ্রহগুলোরই এই সক্ষমতা রয়েছে। তবে নতুন এই গবেষণার পর পাথুরে গ্রহগুলোর—যেগুলোকে একসময় জীবনের জন্য অনুপযুক্ত বলে মনে করা হতো—বিষয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। এই গবেষণা মহাকাশ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

Advertisements
Advertisements