১১ নয়, এবার ৮ জন! বিশ্ব ফুটবলে বড় বদল আনছে ফিফা !

FIFA: বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা ২০২৬ সাল থেকে চালু করতে চলেছে একেবারে নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল। তবে এটি…

FIFA: বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা ২০২৬ সাল থেকে চালু করতে চলেছে একেবারে নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল। তবে এটি প্রচলিত অনূর্ধ্ব-১৭ বা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের মতো হবে না। এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ট্রফি জেতা নয়, বরং কম বয়স থেকেই প্রতিভাবান ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা দেওয়া এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পথ তৈরি করা।

Advertisements

ফিফার মতে, অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পান ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে। কিন্তু সেই সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই উন্নতির গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যায়। তাই দুই-তিন বছর আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বাদ পেলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও দ্রুত বিকশিত হবে। সেই ভাবনা থেকেই এই নতুন টুর্নামেন্টের সূচনা। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ফিফা পাঁচটি বড় লক্ষ্য পূরণ করতে চায়। প্রথমত, ফুটবলারদের ব্যক্তিগত এবং দলগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল ফুটবল এবং কারিগরি দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া। তৃতীয়ত, প্রতিভাবান ফুটবলারদের দ্রুত চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করা। চতুর্থত, ভবিষ্যতের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতার জন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করা। আর পঞ্চম লক্ষ্য হল বিভিন্ন দেশের যুব ফুটবলের কাঠামোকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলা।

   

ভারতীয় ফুটবলের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সামনে এটি বড় সুযোগ, যাতে তারা দেশের গ্রাসরুট ফুটবল ব্যবস্থাকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারে। প্রতিভাবান ফুটবলারদের ছোটবেলা থেকেই সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান কাঠামো কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে।এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল ম্যাচের নতুন ফরম্যাট। প্রচলিত ১১ জনের পরিবর্তে প্রতিটি দল মাঠে নামবে মাত্র ৮ জন ফুটবলার নিয়ে, যার মধ্যে গোলরক্ষকও থাকবেন। অর্থাৎ ম্যাচ হবে ৮ বনাম ৮ ফরম্যাটে। ফিফার বিশ্বাস, কম সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে খেললে প্রত্যেক ফুটবলারের কাছে বল বেশি সময় থাকবে। ফলে পাস দেওয়া, ড্রিবল করা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ অনেক বেশি তৈরি হবে। এতে প্রতিটি খেলোয়াড় ম্যাচে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবে।

শুধু খেলোয়াড়ের সংখ্যাই নয়, মাঠের আকারও ছোট করা হয়েছে। ম্যাচ হবে ৬৮ মিটার লম্বা এবং ৫০ মিটার চওড়া মাঠে। প্রতিটি ম্যাচের সময় হবে মোট ৪০ মিনিট দুই অর্ধে ২০ মিনিট করে খেলা হবে এবং মাঝখানে থাকবে পাঁচ মিনিটের বিরতি। কম সময়ের ম্যাচ এবং ছোট মাঠের কারণে খেলার গতি বাড়বে, একই সঙ্গে ফুটবলারদের প্রতিটি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপও বেশি থাকবে। ফিফার মতে, এই ধরনের পরিবেশ ভবিষ্যতের বড় মঞ্চের জন্য তরুণ ফুটবলারদের আরও ভালোভাবে তৈরি করবে। ভারতের মতো ফুটবল বিকাশের পথে থাকা দেশগুলির জন্যও এই প্রতিযোগিতা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

Advertisements
Advertisements