ভোজ়িনহার গ্লাভস আর মেসির বাঁ পা ফুটবলের নতুন ব্লকবাস্টার?

বিশ্বকাপে নজর কাড়া কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজ়িনহাকে দলে নিতে আগ্রহী ইন্টার মায়ামি। ফ্রি এজেন্ট হওয়ায় ট্রান্সফার জল্পনা আরও জোরালো।

vozinha-inter-miami-transfer-rumours-lionel-messi

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: ফুটবলের চিত্রনাট্যগুলো বোধহয় এভাবেই লেখা হয়! বিশ্বকাপের মঞ্চে যাঁর শট আটকাতে গোলপোস্টের নিচে নিজের সেরাটা দিয়েছিলেন, আগামী দিনে হয়তো তাঁর সঙ্গেই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায়। কথা হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম চর্চিত নাম, কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজ়িনহাকে (Vozinha) নিয়ে। আর্জেন্তিনার ঘাম ছুটিয়ে দেওয়া এই অতন্দ্র প্রহরীর পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে স্বয়ং লিওনেল মেসির দল ইন্টার মায়ামি!

Advertisements

এবারের বিশ্বকাপে অভিষেক করেই গোটা ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। স্পেন বা উরুগুয়ের মতো হেভিওয়েটদের আটকে দেওয়া থেকে শুরু করে আর্জেন্তিনাকে রীতিমতো বিপাকে ফেলা তাদের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের প্রধান সেনাপতি ছিলেন ভোজ়িনহা। যেখানে ফুটবলাররা বুটজোড়া তুলে রাখার কথা ভাবেন, সেখানে ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স শুধুই একটা সংখ্যা। বিশ্বকাপ থেকে কেপ ভার্দে বিদায় নিলেও, ভোজ়িনহাকে নিয়ে ট্রান্সফার মার্কেটে এখন রীতিমতো ঝড় বইছে।

   

একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দাবি, ডেভিড বেকহ্যামের মালিকানাধীন ইন্টার মায়ামি এই বর্ষীয়ান গোলরক্ষককে দলে টানতে প্রবল আগ্রহী। এই দলবদলের অঙ্কটাও মায়ামির জন্য বেশ লাভজনক। পর্তুগিজ ক্লাব জি.ডি. শাভেস-এর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ভোজ়িনহা বর্তমানে ‘ফ্রি এজেন্ট’। অর্থাৎ, কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই তাঁকে দলে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বেকহ্যামের সামনে।

আরও পড়ুন: ভেঙে গেল জুটি! ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে পাকাপাকিভাবে বিচ্ছেদ ইমামির

Advertisements

তবে ব্যবসার হিসাবের বাইরেও এই গুঞ্জনে লুকিয়ে রয়েছে এক দারুণ আবেগ। বিশ্বকাপ মঞ্চে মেসিদের বিরুদ্ধে যে ইস্পাতকঠিন লড়াই তিনি উপহার দিয়েছেন, তা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। কেরিয়ারের একেবারে সায়াহ্নে এসে সেই জাদুকরের সতীর্থ হওয়ার সুযোগ এলে, তা যে ভোজ়িনহা কিছুতেই ফেরাবেন না, তা নিশ্চিত তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলও।

আরও পড়ুন: লোবেরা জামানার ইতি! সবুজ-মেরুনের হট সিটে বসলেন পানাজিওটিস দিলম্পেরিস

এখনও পর্যন্ত মায়ামি বা ভোজ়িনহার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, জল্পনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে ফুটবলের অন্যতম রোমান্টিক এক পরিণতি। একরোখা এক যোদ্ধার হাতে গ্লাভস আর সামনে ফুটবলের ঈশ্বর মায়ামির মাঠে এমন দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে গোটা ফুটবল বিশ্ব!

Advertisements