উপনিষদকে স্লোভাক ভাষায় আনতে লেগেছে পাঁচ বছর, জানালেন গবেষক

ভারতীয় দর্শনের অমূল্য গ্রন্থ উপনিষদের স্লোভাক অনুবাদ সম্পূর্ণ করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় নিয়েছেন গবেষক রবার্ট গাফরিক।

upanishads-translated-into-slovak-after-five-years-of-research

ব্রাতিস্লাভা, স্লোভাকিয়া: ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘উপনিষদ’ (Upanishads)৷ স্লোভাক ভাষায় ‘উপনিষদ’ অনুবাদ করেছেন স্লোভাক একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব ওয়ার্ল্ড লিটারেচারের পরিচালক রবার্ট গাফরিক। তাঁর এই দীর্ঘ গবেষণা ও অনুবাদ প্রকল্প শুধু স্লোভাক পাঠকদের কাছেই ভারতীয় জ্ঞানচর্চার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেনি, বরং ভারত ও স্লোভাকিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও আরও সুদৃঢ় করেছে।

Advertisements

আরও পড়ুন: বিতর্কের মাঝেই ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে মুখোমুখি মোদী-ট্রাম্প! করলেন হ্যান্ডশেক

   

রবার্ট গাফরিক জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনা করার সময় থেকেই ভারত, ভারতীয় ভাষা এবং সাহিত্য সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ ধীরে ধীরে গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম। উপনিষদ সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী গ্রন্থ। কিন্তু স্লোভাক ভাষায় এর কোনও অনুবাদ ছিল না। তাই আমার মনে হয়েছিল, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা স্লোভাক পাঠকদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।”

গাফরিকের কথায়, এই অনুবাদ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা মোটেই সহজ ছিল না। প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে বই প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র অনুবাদের কাজেই তিন থেকে চার বছর কেটে যায়। সংস্কৃত ভাষার গভীর দার্শনিক ভাবনা, শব্দের সূক্ষ্ম অর্থ এবং উপনিষদের আধ্যাত্মিক ব্যঞ্জনাকে স্লোভাক ভাষায় যথাযথভাবে তুলে ধরতে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা ও অধ্যয়ন করতে হয়েছে।

Advertisements

আরও পড়ুন: শত্রুরা সাবধান! চিন তৈরী করল সবচেয়ে ছোট মাছি ড্রোন গুপ্তচর

তিনি মনে করেন, উপনিষদ কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়। এটি মানবজীবন, আত্মসন্ধান, জ্ঞান, চেতনা এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কে গভীর দর্শনের এক অনন্য ভাণ্ডার। তাই এই গ্রন্থের অনুবাদ স্লোভাক পাঠকদের কাছে ভারতীয় চিন্তাধারাকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর কাজের উল্লেখ করায় বিশেষভাবে সম্মানিত বোধ করছেন বলে জানান গাফরিক। তিনি বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমার কাজের কথা উল্লেখ করেছেন, এটি আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। আমি সত্যিই আনন্দিত যে আমার এই উদ্যোগ ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সাহায্য করেছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপনিষদের মতো প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের গ্রন্থকে ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ করা শুধুমাত্র সাহিত্যিক অর্জন নয়, এটি দুই দেশের মধ্যে বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর ফলে ভারতীয় দর্শন, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রাচীন জ্ঞানচর্চা সম্পর্কে ইউরোপের পাঠকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে রবার্ট গাফরিকের এই উদ্যোগকে ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন গবেষক ও সাহিত্য বিশেষজ্ঞরা।

Advertisements