সুপার ওভারের নাটক জিতে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, প্রতিপক্ষ টাউন ক্লাব

মোহনবাগানকে সুপার ওভারে হারিয়ে ফাইনালে উঠল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। অন্য সেমিফাইনালে বারিশাকে হারিয়ে ট্রফির লড়াইয়ে জায়গা নিশ্চিত করেছে টাউন ক্লাব।

east-bengal-beat-mohun-bagan-in-super-over-to-reach-final

স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: পি. সেন মেমোরিয়াল ইনভিটেশন টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর দুই সেমিফাইনালেই দেখা গেল উত্তেজনা, নাটক এবং উচ্চমানের ক্রিকেট। একদিকে সুপার ওভারের রুদ্ধশ্বাস লড়াই জিতে ফাইনালে উঠল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ক্লাব, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিণত পারফরম্যান্সে বারিশা স্পোর্টিংকে হারিয়ে শেষ চারের বাধা টপকাল টাউন ক্লাব। ফলে বুধবারের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে কলকাতা ময়দানের দুই শক্তিশালী দল।

Advertisements

২২ ইয়ার্ডস স্পোর্টস স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমে ব্যাট করে তারা ৩৭.৩ ওভারে ২৯১ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরান করেন সুদীপ কুমার ঘরামি ও মনিসঙ্কর মুরাসিংহ। তাঁদের ইনিংসের উপর ভর করেই বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে লাল-হলুদ শিবির। মোহনবাগানের বোলারদের মধ্যে রবি কুমার চারটি উইকেট নিয়ে দলের লড়াই জিইয়ে রাখেন।

   

আরও পড়ুন: বুধবার থেকেই কলকাতা লিগের প্রস্তুতি শুরু করছে সবুজ-মেরুনন:

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটে মোহনবাগান। দলের ইনিংসের মূল স্তম্ভ ছিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরন। মাত্র ৭০ বলে ৮৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচকে নিজের দলের দিকে টেনে আনেন। তাঁকে দারুণ সমর্থন দেন অভিষেক কুমার রমন। এক সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ সহজেই সবুজ-মেরুনদের দখলে চলে যাবে। কিন্তু শেষ কয়েক ওভারে ইস্টবেঙ্গলের বোলাররা অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করেন। বিকাশ সিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নির্ধারিত ওভারের শেষে দুই দলই ২৯১ রান করায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

east-bengal-beat-mohun-bagan-in-super-over-to-reach-final

Advertisements

সেখানেই তৈরি হয় অবিশ্বাস্য নাটক। সুপার ওভারে মোহনবাগান ১৪ রান তোলে। জয়ের জন্য ইস্টবেঙ্গলের দরকার ছিল ১৫ রান। শেষ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৭ রান। সেই মুহূর্তে মনিসঙ্কর মুরাসিংহ একটি কোমরের অনেক উপরে ওঠা ফুলটস বলকে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন। আম্পায়ার বলটিকে নো-বল ঘোষণা করায় ছক্কার সঙ্গে অতিরিক্ত রানও যোগ হয়। ফলে এক বল বাকি থাকতেই অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল। মাঠজুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাসের বন্যা।

অন্য সেমিফাইনালে টাউন ক্লাব তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ জয় পায়। প্রথমে ব্যাট করে বারিশা স্পোর্টিং ১৫১ রানে অলআউট হয়। প্রভাত মৌর্যের লড়াকু ইনিংস ছাড়া বড় কোনও প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। টাউন ক্লাবের বোলাররা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন।

রাহুল প্রসাদ বল হাতে তিনটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ রান করে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখান। অন্যদিকে অঙ্কুর পালের দায়িত্বশীল ৬৯ রানের ইনিংস জয়কে সহজ করে দেয়। মাত্র ২৬.৩ ওভারে লক্ষ্য পূরণ করে টাউন ক্লাব ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।

এই মরশুমে কলকাতা লিগ জয়ের পর টাউন ক্লাব যে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে, তারই আরেকটি প্রমাণ মিলল এই ম্যাচে। অন্যদিকে সুপার ওভারের চাপ সামলে ফাইনালে ওঠায় আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে বুধবারের ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ট্রফি জিতবে কে, তার উত্তর দেবে শেষ লড়াই, তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা যে আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছেন, তা বলাই যায়।

Advertisements