হরমুজ থেকে তুলতে হবে অবরোধ! ট্রাম্পকে ১ মাসের সময়সীমা ইরানের

হরমুজ প্রণালী অবরোধ ও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরান-আমেরিকার টানাপোড়েন তীব্র। সংঘাত ফের বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

iran-us-ultimatum-strait-of-hormuz-blockade-nuclear-talks-tension

ওয়াশিংটন: ইরান আমেরিকাকে এক মাসের আলটিমেটাম দিয়েছে। (Strait of Hormuz)দেশটি বলেছে, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রিত শর্তে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে শুধুমাত্র অবরোধ প্রত্যাহার এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়ার পর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য জানিয়েছে।এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Advertisements

বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান যদি এটি বন্ধ করে রাখে, তাহলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যেতে পারে। তাই ইরানের এই প্রস্তাবকে অনেকে কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছেন।ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরান ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এক মাসের মধ্যে নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।

   

আরও দেখুনঃ অন্ধ্র প্রদেশে নির্মিত হবে যুদ্ধবিমান হাব, বিনিয়োগের পরিকল্পনা ১ লক্ষ কোটি

শুধুমাত্র তখনই হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রিতভাবে খুলে দেওয়া হবে। পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে ইরান রাজি আছে, কিন্তু সেটা শুধু অবরোধমুক্ত পরিবেশে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবরোধ তুলে না নিলে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।”বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে ইরানের তেল রফতানি ও বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই নানা চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাকে ইরান তার সবচেয়ে বড়ো কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের এই শর্তকে তারা সরাসরি মেনে নিতে পারবে না।

Advertisements

আরও দেখুনঃ শ্রমিক দিবসেই ১৫ পাকিস্তানিকে বরখাস্ত করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল এতিহাদ

ওয়াশিংটন মনে করে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উন্নয়নকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীন ও রাশিয়া ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

Advertisements