প্রথমবারের মতো ইরানের বিরুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে আমেরিকা

মার্কিন সেনার হাইপারসনিক ‘ডার্ক ঈগল’ মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রস্তাব, ইরানের গভীরে হামলার সক্ষমতা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ

Dark Eagle: আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ব্যবহারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমনটা ঘটলে এটি হবে অস্ত্রটির প্রথম কার্যকর মোতায়েন। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামরিক বাহিনীর দীর্ঘ-বিলম্বিত ডার্ক ঈগল সিস্টেমটি এই অঞ্চলে মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করেছে।

Advertisements

এর উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের গভীরে অবস্থিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেওয়া। অনুমোদন পেলে, এটিই হবে প্রথমবার যখন যুক্তরাষ্ট্র একটি হাইপারসনিক অস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করবে। এই ব্যবস্থাটির বাস্তবায়ন বেশ কয়েক বছর ধরে বিলম্বিত হয়েছে এবং এটিকে এখনো সম্পূর্ণরূপে কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়নি।

   

Read More: জইশের কমান্ডার আজহারকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তির

অনুরোধটির সাথে পরিচিত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে যে, ইরান তাদের লঞ্চারগুলোকে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আওতার বাইরে সরিয়ে নিয়েছে, যা ৪৮০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন যে, এই অনুরোধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই অনুরোধটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে প্রস্তুত।

Advertisements

Read More: জম্মু কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ দেখিয়ে ক্ষমা চাইল নেপাল

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের পাল্টা জবাব দেবে

৯ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পক্ষই এই সময়টিকে অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ ও পরিকল্পনা করার জন্য ব্যবহার করছে। এর ফলে ভবিষ্যতের লড়াইগুলো আরও প্রাণঘাতী হতে পারে।

অনুমোদিত হলে, এই সিদ্ধান্তটি আমেরিকার কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে এই বার্তা দেবে যে পেন্টাগনের অবশেষে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই তাদের নিজস্ব হাইপারসনিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে।

Advertisements